
আওয়ার টাইমস নিউজ।
সারাদেশ ডেস্ক: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণার পরই দেশের বিভিন্ন রুটে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগেই অনেক বাস, মিনিবাস ও লেগুনায় যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে।
ঢাকার বিভিন্ন রুটে যাত্রীদের কাছ থেকে ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দূরপাল্লার কয়েকটি বাসে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
রাজধানীর রায়সাহেব বাজার, গুলিস্তান, পল্টন ও শাহবাগ এলাকায় মঙ্গলবার বিভিন্ন বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ঘটনা দেখা গেছে। এ নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে পরিবহনকর্মীদের বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটেছে।
সায়েন্সল্যাব থেকে রায়সাহেব বাজারগামী একটি বাসে আগে ২০ টাকা ভাড়া দিলেও এক যাত্রীর কাছে ২৫ টাকা চাওয়া হয়। একইভাবে নতুনবাজার থেকে গুলিস্তান রুটে ৩০ টাকার পরিবর্তে ৪০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মতিঝিল থেকে দৈনিক বাংলা মোড় পর্যন্ত এক যাত্রীর কাছ থেকে ১০ টাকার পরিবর্তে ১৫ টাকা নেওয়া হয়। কন্ডাক্টর সর্বনিম্ন ভাড়া বাড়ানোর কথা বললেও যাত্রী প্রশ্ন তোলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগেই কেন বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া সাইনবোর্ড থেকে নতুনবাজার রুটের একটি এসি বাসে ১০০ টাকার পরিবর্তে ১২০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মহাখালী থেকে বিজয় সরণি এবং গুলিস্তান থেকে বিমানবন্দর রুটেও নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের কয়েকটি রুটেও একই পরিস্থিতির কথা জানা গেছে। চিটাগাং রোড থেকে যাত্রাবাড়ী রুটে লেগুনার ভাড়া ২০ থেকে ২৫ টাকা এবং ২৫ থেকে ৩০ টাকা করা হয়েছে বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন।
চট্টগ্রাম নগরীতেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। আগ্রাবাদ, বহদ্দারহাট, চকবাজার ও নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় বাস, টেম্পো ও হিউম্যান হলারে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কাজীর দেউড়ি থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার পথের ভাড়া ৭ টাকা থাকলেও সেখানে ১৫ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কোতোয়ালি থেকে জামালখান রুটে ৮ থেকে ১০ টাকার পরিবর্তে ১৫ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন রুটে দূরত্ব অনুযায়ী ৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। কয়েকটি স্থানে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কে কেন্দ্র করে যাত্রী ও পরিবহনকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে।
এর আগে সরকার ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। এরপর গণপরিবহনের ভাড়া সমন্বয়ের আলোচনা শুরু হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে সরকার কিলোমিটারপ্রতি বাসভাড়া ১৭ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানায়। তবে এর আগেই বিভিন্ন রুটে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, জ্বালানির দাম কমলে গণপরিবহনের ভাড়া একইভাবে কমানো হয় না। অথচ জ্বালানির দাম বাড়ার খবর এলেই অনেক পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নির্ধারিত সিদ্ধান্তের আগেই ভাড়া বাড়িয়ে দেন।

























