
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। রান্নার গ্যাস থেকে শুরু করে সিএনজি স্টেশন ও শিল্পকারখানা, সবখানেই কম চাপের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। এলএনজি টার্মিনালের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড।
তিতাস জানায়, সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত পর্যন্ত তাদের অধিভুক্ত এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ থাকতে পারে। বিশেষ করে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় এর প্রভাব বেশি পড়ছে।
গ্যাসের স্বল্পচাপে রাজধানীর তেজগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে। অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকদের দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষার পরও অনেকে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস পাচ্ছেন না।
একজন সিএনজি চালক জানান, গ্যাসের চাপ এত কম যে আগে যেখানে ২৫০ টাকার গ্যাস নেওয়া যেত, এখন সেখানে ৫০–৬০ টাকার বেশি পাওয়া যাচ্ছে না। আবার কিছু স্টেশনে একেবারেই গ্যাস নেই। স্টেশন কর্মীরাও জানিয়েছেন, গত কয়েক মাস ধরেই চাপ কম থাকলেও গত দুই দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। আগে যেখানে চাপ ছিল প্রায় ২০০, সেখানে এখন নেমে এসেছে ১০০-এ।
শুধু সিএনজি স্টেশন নয়, বাসাবাড়িতেও একই অবস্থা। রাজধানীর যেসব এলাকায় সাধারণত গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে, সেখানেও এখন চুলায় আগুন ঠিকমতো জ্বলছে না। অনেক পরিবারকে রান্নায় দ্বিগুণ সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। একজন বাসিন্দা বলেন, সকালে সামান্য ভাত রান্না করতেই এক ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে, আর তরকারি রান্না করতে লেগেছে প্রায় দুই ঘণ্টা।
জ্বালানি খাতের তথ্য অনুযায়ী, দেশে দৈনিক প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দুইটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে আমদানি করা গ্যাসের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। তবে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে একটি এলএনজি টার্মিনাল রক্ষণাবেক্ষণে যাওয়ায় সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে।
তিতাস গ্যাসের অপারেশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কাজী সাইদুল হাসান জানান, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি এলএনজি আমদানিতেও সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সার্বিক সরবরাহে।
গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় শিল্পকারখানার উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। অনেক কারখানায় উৎপাদন আংশিক বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এই সাময়িক ভোগান্তির জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস কর্তৃপক্ষ এবং রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।





























