
আওয়ার টাইমস নিউজ
নিউজ ডেস্ক: ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ঢেউয়ে দেশ ছাড়েন আওয়ামী লীগপন্থী সাবেক প্রভাবশালী মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সেই সময় থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক সূত্রে দাবি করা হয়। সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে জানা যাচ্ছে, বর্তমানে তিনি গুরুতর শারীরিক সংকটে রয়েছেন এবং জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে সময় কাটাচ্ছেন।
এমন এক সংবেদনশীল মুহূর্তে সামনে এসেছে এক মানবিক ও আবেগঘন তথ্য। ঘনিষ্ঠ ও বিশেষ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ওবায়দুল কাদের নাকি তার জীবনের শেষ কিছু সময় ভারতের মাটিতে নয়, বরং নিজের জন্মভূমি নোয়াখালীতেই কাটাতে গভীর আকুতি প্রকাশ করেছেন। শৈশব, রাজনীতি এবং জীবনের দীর্ঘ পথচলার স্মৃতিবাহী সেই নোয়াখালীর মাটিই নাকি এখন তার শেষ আশ্রয়ের আকাঙ্ক্ষা।
সূত্রগুলো বলছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ক্ষমতা, বিতর্ক ও প্রভাবের কেন্দ্রে থাকা এই সাবেক নেতা এখন অনেকটাই নিঃসঙ্গ। অসুস্থতা ও বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে তিনি উপলব্ধি করছেন—ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু জন্মভূমির টান চিরন্তন। নোয়াখালীর গ্রামের বাড়ি, আপনজন, পরিচিত আকাশ-বাতাস—এসবই এখন তার মনে বারবার ফিরে আসছে।
যদিও এ বিষয়ে এখনো পরিবারের পক্ষ থেকে কিংবা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক মহল থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে এই তথ্য নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। অনেকেই বলছেন, ইতিহাসে বহু শাসক ও প্রভাবশালী নেতার শেষ ইচ্ছা ছিল মাতৃভূমিতে ফিরে যাওয়ার—ওবায়দুল কাদেরের এই আকুতিও সেই মানবিক সত্যেরই প্রতিফলন।
রাজনৈতিকভাবে তিনি সমালোচিত কিংবা বিতর্কিত যাই হোন না কেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে একজন মানুষের জন্মভূমিতে ফেরার আকাঙ্ক্ষা নতুন করে প্রশ্ন তোলে-রাজনীতি কি শেষ পর্যন্ত মানুষের ব্যক্তিগত বেদনা ও টানকে অতিক্রম করতে পারে?
নোয়াখালীর মাটিতে দাঁড়িয়ে শেষ নিঃশ্বাস নেওয়ার সেই আকুতি বাস্তবে রূপ পাবে কি না, তা এখন সময়ই বলে দেবে। তবে এই সংবাদ আবারও মনে করিয়ে দেয়-ক্ষমতার চূড়ায় থাকা মানুষটিও শেষ পর্যন্ত ফিরে যেতে চায় তার শিকড়ের কাছে।


























