
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জাতিসংঘ বর্তমানে মারাত্মক আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে। সংস্থার সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বকেয়া বার্ষিক চাঁদা এবং বিদ্যমান অর্থনৈতিক কাঠামোর কারণে সংস্থার কাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। সদ্য বিদায়ী সপ্তাহে সদস্য দেশগুলোকে পাঠানো এক চিঠিতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই গুরুতর অবস্থা তুলে ধরেছেন।
চিঠিতে গুতেরেস সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন সময়মতো ও পূর্ণাঙ্গভাবে চাঁদা পরিশোধ করে অথবা সংস্থার আর্থিক নিয়ম সংস্কারে সম্মত হয়। চাঁদা না পেলে জাতিসংঘের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জাতিসংঘের মুখপাত্র ফারহান হক শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, চাঁদা দেওয়ার বিষয়টি এখন ‘এখনই নয়তো কখনোই নয়’ অবস্থায় এসেছে। যদিও গুতেরেস কোনো নির্দিষ্ট দেশ উল্লেখ করেননি, তবে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থায়ন কমানো পরিস্থিতি আরও তীব্র করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে জাতিসংঘসহ ৬৬টি সংস্থা থেকে সরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, সদস্য দেশগুলোর জিডিপি ও অন্যান্য সূচকের ভিত্তিতে বার্ষিক চাঁদা নির্ধারণ করা হয়। মূল বাজেটের ২২ শতাংশ দেয় যুক্তরাষ্ট্র, আর ২০ শতাংশ দেয় চীন। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ১.৫৭ বিলিয়ন ডলার চাঁদা বকেয়া ছিল। চলতি মাসের শুরুতে ২০২৬ সালের বাজেট অনুমোদন করা হয়, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ শতাংশ কম। তবুও গুতেরেস সতর্ক করেছেন, বর্তমান অবস্থা অব্যাহত থাকলে জুলাইয়ের মধ্যেই সংস্থার নগদ অর্থ শেষ হয়ে যেতে পারে।
জাতিসংঘের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে মাত্র ৩৬টি দেশ ২০২৬ সালের নিয়মিত চাঁদা সম্পূর্ণ পরিশোধ করেছে।


























