
আওয়ার টাইমস নিউজ।
অর্থনীতি ডেস্ক: বিশ্ববাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার পরও দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম এখনো ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেলেও তার সরাসরি প্রভাব এখনো পুরোপুরি পড়েনি দেশের বাজারে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি স্বর্ণের দামে বড় ধাক্কা লাগে এবং এক পর্যায়ে তা প্রায় ৪ হাজার ৭০০ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে। পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে আবারও ৪ হাজার ৭০০ ডলারের ওপরে উঠলেও বাজারে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, টেকনিক্যাল সংকেত ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সামনে আরও বড় পতনের সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে দাম ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ ডলার পর্যন্ত যেতে পারে।
তারা বলছেন, সাম্প্রতিক এই ওঠানামা মূলত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, সুদের হার, এবং বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি কমানোর প্রবণতার কারণে হচ্ছে। ফলে স্বর্ণের বাজার এখনো স্থিতিশীল হয়নি।
অন্যদিকে, দেশের বাজারে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। সর্বশেষ নির্ধারিত দামে আজ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকায়।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও দেশের বাজারে তা সঙ্গে সঙ্গে প্রতিফলিত হয় না। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, স্থানীয় চাহিদা, ডলারের বিনিময় হার, আমদানি ব্যয় এবং কর কাঠামো, এসব বিষয় দেশের বাজারকে আলাদা করে প্রভাবিত করে।
এদিকে, চলতি বছরে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ইতোমধ্যে বহুবার সমন্বয় করা হয়েছে, যার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দাম বেড়েছে। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ এখন অনেকটাই নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা থাকলেও দেশের বাজার এখনো উচ্চ দামে স্থির রয়েছে। তবে সামনে বিশ্ববাজারে যদি বড় পতন অব্যাহত থাকে, তাহলে তার প্রভাব ধীরে ধীরে দেশের বাজারেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: কিটকো নিউজ, বাজুস




























