
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত আরও তীব্র হলে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে নতুন সামরিক পরিকল্পনা প্রস্তুত করছে ইসরায়েল। তবে আপাতত দেশটি সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর কোনো তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ের শুরুতে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়লেও ইসরায়েল এখন পর্যন্ত সংঘাতে সরাসরি অংশ নেয়নি। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রও আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলকে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার অনুরোধ জানায়নি।
সূত্রগুলোর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যদি ভবিষ্যতে হামলার পরিধি আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় এবং ইসরায়েলকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানায়, তাহলে সে জন্য প্রস্তুতি রয়েছে।
সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সীমিত নিরাপত্তা বৈঠকে তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে যুদ্ধে অংশ নেওয়া, ইরানের হামলার জবাব দেওয়া অথবা সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় আগাম সামরিক অভিযান চালানো।
ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামির বলেছেন, প্রয়োজন হলে যেকোনো সময় আবারও যুদ্ধ শুরু করার সক্ষমতা তাদের রয়েছে। তিনি বলেন, ইসরায়েলের ওপর হামলা হলে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে তার জবাব দেওয়া হবে।
তবে ইসরায়েলের একটি সূত্রের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিই তাদের জন্য তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার পাশাপাশি তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে।
অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচও একই ধরনের মন্তব্য করে বলেন, ইসরায়েল এই মুহূর্তে সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে আগ্রহী নয়। তার মতে, সীমিত সংঘাত ইরানের অর্থনীতি ও শাসনব্যবস্থার ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করছে।
ইসরায়েলের মূল্যায়নে সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির পরিবহন ও বাণিজ্য ব্যবস্থা বড় ধাক্কা খেয়েছে। এর ফলে অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি থাকলেও বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক উদ্যোগও নজরে রাখা হচ্ছে।
আরেক কর্মকর্তা বলেন, ইসরায়েল যুদ্ধে অংশ নিলে তাদের প্রধান লক্ষ্য হতে পারে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনা। তবে এমন হামলা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র সফরের পরিকল্পনা করছেন। সফরের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে।
সূত্র: সিএনএন




























