
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বাংলাদেশের আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সদ্যসাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক বিস্ফোরক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। তিনি দাবি করেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ব্যক্তিগতভাবে তাকে ফোন করেছিলেন।
মঙ্গলবার এক অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাংলাদেশের একটি বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজনরা মেঘালয় সীমান্ত হয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করলে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) তাদের গ্রেপ্তার করে। তবে দেশের স্বার্থের কথা উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি গোপন রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
যদিও মমতা সরাসরি নিহত ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি, তবে তার বক্তব্যের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি বাংলাদেশের আলোচিত রাজনৈতিক কর্মী ও ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর প্রতিষ্ঠাতা মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের কথাই ইঙ্গিত করেছেন।
ওসমান হাদি ২০২৪ সালের রাজনৈতিক আন্দোলনের পর বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও জাতীয় ইস্যুতে সরব ভূমিকা পালন করতেন এবং দেশের রাজনীতিতে একটি নতুন ধারার প্রতিনিধি হিসেবে আলোচনায় ছিলেন। তার রাজনৈতিক উত্থানের মধ্যেই ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় সশস্ত্র হামলার শিকার হন তিনি। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এর আগে জানিয়েছিল, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন কয়েকজন ব্যক্তি বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়। পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে সেই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের পর।
বক্তৃতায় মমতা বলেন, তিনি এখনো অনেক তথ্য প্রকাশ করেননি দেশের বৃহত্তর স্বার্থের কথা বিবেচনা করে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। তিনি আরও দাবি করেন, পুরো ঘটনার নেপথ্য সম্পর্কে তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে।
তার এই মন্তব্যের পর ভারত ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি এ দাবিগুলোর সত্যতা প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নয়, বরং দুই দেশের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হতে পারে।
তবে উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের বিষয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও জল্পনা-কল্পনা অব্যাহত রয়েছে

























