
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নতুন করে কঠোর আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্নফাঁস, নকল ও ডিজিটাল জালিয়াতির মতো অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় পরীক্ষাব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছ করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন ‘পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর খসড়ায় প্রশ্নপত্র ফাঁসকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রশ্ন ছড়িয়ে দেওয়া, গোপন তথ্য ফাঁস এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে নকল করার মতো অপরাধকেও কঠোর শাস্তির আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।
খসড়া অনুযায়ী, নকলের সহায়তা করলে শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও শাস্তির আওতায় আসবেন। পাশাপাশি বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার, দ্রুত বিচার এবং সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে মামলা নিষ্পত্তির বিধানও রাখা হয়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণা বেড়ে যাওয়ায় পরীক্ষার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও শক্ত করা হচ্ছে। পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশাধিকার সীমিত করা হবে এবং মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ছাড়া অন্য কারও প্রবেশ নিষিদ্ধ রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পুরোনো আইনের দুর্বলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীরা শাস্তি এড়িয়ে গেছে। তাই বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে আইনটি হালনাগাদ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতির ধরনও পরিবর্তিত হয়েছে। তাই এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন সময়ের দাবি। তিনি জানান, নতুন আইনের মাধ্যমে পরীক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, আইন প্রণয়ন গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর কার্যকর বাস্তবায়নই হবে আসল চ্যালেঞ্জ। তারা বলছেন, সঠিকভাবে প্রয়োগ করা গেলে শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
আগামী এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা থেকে ধাপে ধাপে নতুন নিয়ম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।




























