
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে যখন তীব্র ক্ষোভ আর আতঙ্ক বিরাজ করছে, ঠিক তখনই নারায়ণগঞ্জের আরেকটি নৃশংস ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয়দের। এবার সদর উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়নে মাত্র ৬ বছরের এক কন্যাসন্তানকে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে বক্তাবলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আনন্দবাজার এলাকায় এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এক লম্পটকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বিকেলবেলা ঘটনাটি ঘটার পর শিশুটির মা বিষয়টি টের পেলেও প্রথমে লোকলজ্জা এবং লোক জানাজানির ভয়ে কাউকে কিছু জানাননি। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে শিশুটির শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হতে শুরু করে। একপর্যায়ে রক্তক্ষরণ না থামায় শিশুটিকে দ্রুত মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন।
এদিকে রাতের দিকে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত স্থানীয় মানুষ রাস্তায় নেমে আসে এবং আনন্দবাজার এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা রাতেই মূল অভিযুক্ত হিরোকে (২২) ধাওয়া করে আটকে ফেলে এবং গণধোলাই দেয়। হিরো স্থানীয় মনির হোসেনের ছেলে। খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর জখম অবস্থায় হিরোকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে ঘটনার সাথে জড়িত জামাল পাটোয়ারীর ছেলে সোহেল (২১) নামে অপর এক যুবক এখনো পলাতক রয়েছে।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহাবুব আলম জানান, খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। অভিযুক্ত একজন আমাদের হেফাজতে চিকিৎসাধীন আছে। পলাতক অপর আসামি সোহেলকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। এই জঘন্য অপরাধের পেছনে অন্য কিছু আছে কি না, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।



























