
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী করতে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের পাশাপাশি বিদ্যমান পাঠ্যবই পরিমার্জন ও শিক্ষণ পদ্ধতিতে আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ধাপে ধাপে এই পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা হবে এবং ২০২৮ শিক্ষাবর্ষে এর পূর্ণাঙ্গ রূপ দেখা যাবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সাল থেকেই শিক্ষার্থীরা নতুন কিছু পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা পেতে শুরু করবে। চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য যুক্ত করা হচ্ছে দুটি নতুন বই, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ এবং ‘সোশ্যাল কালচার’। এর লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষাকে আরও সহজ, আনন্দময় এবং জীবনঘনিষ্ঠ করে তোলা।
শারীরিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। চতুর্থ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা ও শরীরচর্চা নিয়মিত শিক্ষার অংশ হবে। ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, কারাতে, দাবা, সাঁতার ও অ্যাথলেটিকসসহ বিভিন্ন খেলাধুলা এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এ বিষয়ে কোনো লিখিত পরীক্ষা না থাকলেও ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি যাচাই করা হবে।
তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষায়ও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির আইসিটি বই সম্পূর্ণ নতুনভাবে সাজানো হবে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবোটিক্সসহ আধুনিক প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয় যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের জন্য প্রস্তুত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন করা হবে তিন ধাপে—পাঠ্যবই পরিমার্জন, কারিকুলাম পর্যালোচনা এবং নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়ন। পুরো প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখা, সমস্যা সমাধান দক্ষতা এবং সৃজনশীল চিন্তার বিকাশকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এছাড়া ডিজিটাল কনটেন্ট, ইন্টারঅ্যাকটিভ লার্নিং এবং আধুনিক শিক্ষণ পদ্ধতির অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনাও রয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রায় ২০০ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে শিক্ষাবিদ, বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ, অভিজ্ঞ শিক্ষক এবং অভিভাবক প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতীতের কারিকুলাম বাস্তবায়নে যেসব সীমাবদ্ধতা ও দুর্বলতা ছিল, সেগুলো চিহ্নিত করে নতুন পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। বিশেষ করে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ঘাটতি দূর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, কারণ দক্ষ শিক্ষক ছাড়া কোনো কারিকুলাম সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। দেশের বাস্তবতা, অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে এই পরিবর্তন কার্যকর করা হবে। নতুন কারিকুলামে জলবায়ু পরিবর্তন, ডিজিটাল নিরাপত্তা, দলগত কাজ এবং ব্যবহারিক শিক্ষার বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
শিক্ষাবিদদের মতে, মুখস্থনির্ভর শিক্ষা থেকে বেরিয়ে এসে দক্ষতা ও বাস্তবজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষায় রূপান্তর ঘটাতে পারলে এই উদ্যোগ দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।




























