
আওয়ার টাইমস নিউজ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয়সূচক গোল করে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বসেরার মুকুট মাথায় তুলল স্পেন। স্পেনের এই ঐতিহাসিক জয় কেবল ইউরোপেই নয়, এক অভূতপূর্ব আনন্দের জোয়ার এনে দিয়েছে সুদূর ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায়। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে স্পেনের এই বিশ্বজয়কে গাজার শত শত ফিলিস্তিনি নাগরিক অত্যন্ত আবেগ ও উদ্দীপনার সাথে উদযাপন করেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় ইসরায়েলের চালানো বর্বর ও গণহত্যামূলক যুদ্ধ দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চললেও, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ সাময়িকভাবে দুঃখ ভুলে একত্রিত হন। সেখানে শত শত ফিলিস্তিনি স্পেন জাতীয় দলের এই মহান বিজয়কে স্বাগত জানিয়ে আনন্দধ্বনি ও উল্লাস প্রকাশ করেন।
ফুটবল মাঠের এই আনন্দ কেবল ফিলিস্তিনেই সীমাবদ্ধ ছিল না; খোদ স্পেনেও বিজয় উদযাপনের সময় সমর্থকেরা ফিলিস্তিনের মজলুম মানুষের কথা ভুলে যাননি। স্পেনের বিভিন্ন শহরে বিজয়োৎসবের সময় হাজার হাজার সমর্থককে ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকা ওড়াতে এবং ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।
বিশ্বকাপের এই ফাইনালকে ঘিরে আগে থেকেই ফিলিস্তিন-ইসরায়েল ইস্যু চরম উত্তেজনার রূপ নিয়েছিল। বিশেষ করে স্পেন জাতীয় দলের তরুণ মুসলিম বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামাল এর আগে ২০২৫-২৬ মৌসুমে তাঁর ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে স্থানীয় লিগ শিরোপা উদযাপনের সময় প্রকাশ্যেই ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়েছিলেন।
ইয়ামালের সেই সাহসী পদক্ষেপ ফিলিস্তিনিদের হৃদয়ে গভীর ভালোবাসার জায়গা করে নিয়েছিল, যার প্রতিফলন দেখা গেল আজকের এই বিশ্বকাপ জয়ের পর। যদিও ইসরায়েলিদের একটি বড় অংশ এই মুসলিম তারকার ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করে আসছিল, তবে আজকের এই বিশ্বজয় সব সমালোচনার মোক্ষম জবাব দিয়েছে।
মাঠের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে স্পেনের এই ট্রফি জয় যেন গাজার অবরুদ্ধ ও নির্যাতিত মানুষের মাঝে এক চিলতে সুখের আলো ছড়ালো, যা ফুটবল ইতিহাসের পাতায় এক অনন্য আবেগঘন অধ্যায় হিসেবে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
সূত্র: আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড ও সোশ্যাল মিডিয়া।




























