সর্বশেষ
ই/সরাইলি হা/মলায় গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আল্লাহর নামে জিকিরে মগ্ন অবস্থায় থাকা এক ফি/লিস্তিনি নারীর লাশ উদ্ধার
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬: আজকের স্বর্ণের বাজার দর কত?
করোনার ৪০ হাজার কোটি টাকার ব্যয়ের নথি নিয়ে প্রশ্ন, ফেরত আসেনি ১২০০ কোটি
আজ প্রিয়তমা স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা ও প্রশংসা প্রকাশের বিশেষ দিন
জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ১২ জনের ৩ দিনের রিমান্ড
২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু
আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরি ছাড়াল ২ লাখ ৩৪ হাজার টাকা
যে কোনো সময় এক দফায় রূপ নিতে পারে দাবি: জামায়াত আমির
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬: আজকের স্বর্ণের বাজার দর কত?
আজ টানা ৬ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
সৌদি আরবে ঘুমের মধ্যে প্রবাসী যুবকের মৃত্যু টাইমস নিউজ
দেশের বাজারে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা
মার্কিন অর্থনৈতিক চাপে কোণঠাসা ইরান, কমছে হরমুজকে ঘিরে তেহরানের দরকষাকষির শক্তি
অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি রোগীরদের মৃত্যুর ঘটনায় ভারতে চিকিৎসা নিতে রোগীর ভাটা; চাপে কলকাতার হাসপাতালগুলো
গ্রিসে এয়ার শোতে ফ্যান্টম যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, নিহত দুই পাইলট

‘স্যার-ম্যাডাম’ ছাড়া নারী ডাক্তারকে অন্য নামে ডাকলেই আপত্তি! এই ধরনের নোটিশ অযৌক্তিক বলে মুহূর্তেই ছিড়ে ফেললেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা

Our Times News

আওয়ার টাইমস নিউজ।

নিউজ ডেস্ক: কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নারী চিকিৎসকদের সম্বোধন নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকের কক্ষের দরজায় হাতে লেখা একটি নির্দেশনা টানানো হয়েছিল। সেখানে নারী চিকিৎসকদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ ছাড়া অন্য কোনো সম্বোধন না করার কথা বলা হয়। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। পরে ওই নির্দেশনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। শুক্রবার বিকেলে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর কর্তৃপক্ষ ওই নির্দেশনাটি সরিয়ে ফেলে।

মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সরকারি চাকরির বিধিমালায় কোনো চিকিৎসককে অবশ্যই ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ বলে সম্বোধন করতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তাঁর মতে, জরুরি বিভাগের দরজায় এ ধরনের নির্দেশনা টানানো অযৌক্তিক। বিষয়টি নজরে আসার পর তিনি নিজে স্টাফদের মাধ্যমে নির্দেশনাটি সরিয়ে ফেলেন। তিনি বলেন, একজন চিকিৎসকের সবচেয়ে বড় গুণ হলো মানবিক হওয়া। রোগীদের সেবা দেওয়াই চিকিৎসকের প্রধান দায়িত্ব। তাই সম্বোধন নিয়ে এমন নির্দেশনা দেওয়া কোনোভাবেই যুক্তিসংগত নয়।

হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, প্রায় এক মাস আগে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকের কক্ষের দরজায় হাতে লেখা ওই নির্দেশনাটি টানানো হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের ভেতরেও আলোচনা ও সমালোচনা চলছিল। তবে তখন বিষয়টি হাসপাতালের বাইরে ব্যাপকভাবে জানাজানি হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্দেশনাটির ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এতে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের মধ্যে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিশেষ করে গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ এ ধরনের নির্দেশনা নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করেন। তাঁদের অনেকেই চিকিৎসকদের সামাজিকভাবে প্রচলিত সম্বোধনেই ডাকেন।

মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের বড় একটি অংশ গ্রামের বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে কেউ হতদরিদ্র, কেউ স্বল্পশিক্ষিত, আবার অনেকে সহজ-সরল জীবনযাপনে অভ্যস্ত। স্থানীয় ভাষা ও সামাজিক রীতি অনুযায়ী তাঁরা নারী চিকিৎসকদের ‘আপা’ এবং পুরুষ চিকিৎসকদের ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করেন। স্থানীয় রোগীদের বক্তব্য, এসব সম্বোধনের মধ্যে চিকিৎসকদের অসম্মান করার কোনো উদ্দেশ্য থাকে না। বরং দীর্ঘদিনের সামাজিক অভ্যাস থেকেই তাঁরা এভাবে কথা বলেন। চিকিৎসা নিতে এসে সম্বোধনের ধরন নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়া রোগীদের জন্য অস্বস্তিকর বলেও মনে করেন তাঁরা।

সম্প্রতি মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেওয়া নবীপুর এলাকার বাসিন্দা ফাতেমা বেগম নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রামের মানুষ নারী চিকিৎসকদের সাধারণত ‘আপা’ এবং পুরুষ চিকিৎসকদের ‘ভাই’ বলে ডাকেন। তিনি অভিযোগ করেন, কখনো কখনো এ ধরনের সম্বোধন নিয়ে চিকিৎসকদের অসন্তোষের মুখে পড়তে হয়। তাঁর মতে, গ্রামের সাধারণ মানুষকে সম্বোধনের ধরন নিয়ে বিব্রত না করে তাঁদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও মনে করেন, রোগীরা হাসপাতালে আসেন চিকিৎসা নেওয়ার জন্য। তাই তাঁদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করা উচিত।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের এক কর্মচারী জানান, কয়েক মাস আগে হাসপাতালে নতুন কয়েকজন নারী চিকিৎসক যোগ দেওয়ার পর সম্বোধন নিয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাঁর দাবি, তিনিও একবার একজন নারী চিকিৎসককে ‘আপা’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। এতে ওই চিকিৎসক অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং তাঁকে ‘ম্যাডাম’ অথবা ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করতে বলেন। তবে এই ঘটনার সঙ্গে জরুরি বিভাগের দরজায় লাগানো নির্দেশনার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসকের নাম প্রকাশ করেনি। বিষয়টি নিয়ে আরও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কোন নারী চিকিৎসকের কারণে ওই নির্দেশনা টানানো হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত নন বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, হাসপাতালে নতুন কয়েকজন নারী চিকিৎসক রয়েছেন। তাঁদের মধ্য থেকে কারও কারণে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি শুনেছেন। তবে নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসকের কারণে এটি করা হয়েছিল কি না, তা তিনি খতিয়ে দেখছেন। তিনি আবারও বলেন, চিকিৎসকদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ বলে সম্বোধন করতেই হবে এমন কোনো সরকারি নিয়ম নেই। রোগীদের সেবা দেওয়াই চিকিৎসকদের মূল দায়িত্ব। তাই রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকজন চিকিৎসক বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন। তাঁদের মতে, একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো হাসপাতালের চিকিৎসকদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হওয়া উচিত নয়। চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে পারস্পরিক সম্মান থাকা জরুরি। একই সঙ্গে রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসকদের মানবিক আচরণও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। তাঁদের ভাষা, সামাজিক অভ্যাস এবং সম্বোধনের ধরনও ভিন্ন হতে পারে। তাই রোগীদের বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে হাসপাতাল পরিচালনা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তাঁরা।

এ বিষয়ে কুমিল্লার সিভিল সার্জন আলী নূর মোহাম্মদ বশীর আহমেদও বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, কোনো ডাক্তারকে ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ বলে ডাকতেই হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তিনি বলেন, তিনি চাকরি করেন মানুষের সেবা করার জন্য এবং এটিই তাঁর দায়িত্ব। কেউ তাঁকে অন্যভাবে সম্বোধন করলেও তিনি সেটিকে ব্যক্তিগতভাবে নেন না বলে জানান। মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না বলেও জানান তিনি। তবে ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন কুমিল্লার সিভিল সার্জন।

ঘটনাটি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, চিকিৎসক ও রোগীর সম্পর্ক হওয়া উচিত পারস্পরিক সম্মান, সহযোগিতা ও মানবিকতার ভিত্তিতে। আবার চিকিৎসকদের যথাযথ সম্মান দেখানো উচিত বলেও অনেকে মত দিয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, চিকিৎসকদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ বলে সম্বোধন করা বাধ্যতামূলক এমন কোনো সরকারি বিধান নেই। সমালোচনার পর জরুরি বিভাগের দরজায় টানানো নির্দেশনাটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এখন কর্তৃপক্ষের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ঘটনাটির প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা এবং রোগীদের জন্য একটি স্বাভাবিক ও রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা।

ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সুচী
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ওয়াক্তসময়
সুবহে সাদিকভোর ৪:৩১
সূর্যোদয়ভোর ৫:৪৬
যোহরদুপুর ১১:৫২
আছরবিকাল ৩:১৮
মাগরিবসন্ধ্যা ৫:৫৭
এশা রাত ৭:১৩

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সুচী
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ওয়াক্তসময়
সুবহে সাদিকভোর ৪:৩১
সূর্যোদয়ভোর ৫:৪৬
যোহরদুপুর ১১:৫২
আছরবিকাল ৩:১৮
মাগরিবসন্ধ্যা ৫:৫৭
এশা রাত ৭:১৩

সর্বশেষ

© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত