
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিশ্ব থেকে সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক প্রচারণা’ চীন ও রাশিয়ার শক্ত অবস্থানের কারণে চরম বাধার মুখে পড়তে যাচ্ছে। সম্প্রতি ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ ইরানকে অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদানকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে চরম শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুমকি দিলেও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী বেইজিং ও মস্কোর ওপর ওয়াশিংটনের প্রভাব সীমিত হওয়ায় এই অর্থনৈতিক চাপ কার্যকর করা প্রায় অসম্ভব।
চীন বর্তমানে ইরানের সর্ববৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরান থেকে সমুদ্রপথে রফতানি হওয়া মোট তেলের প্রায় ৮০ শতাংশই কিনেছে চীনের স্বাধীন তেল শোধনাগারগুলো। এই শোধনাগারগুলো মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল না হওয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীনের সঙ্গে ইরানের জ্বালানি বাণিজ্য বন্ধ করা মার্কিন প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে, চলতি বছরের জানুয়ারিতেই রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে ২০ বছর মেয়াদী কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ইতোমধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ওপর সর্বোচ্চ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি থাকায়, মস্কোকে নতুন করে অর্থনৈতিক ভয় দেখিয়ে ইরান থেকে আলাদা করার সুযোগ ওয়াশিংটনের হাতে নেই।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি যুক্তরাষ্ট্রের এই চক্রান্তকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ বলে আখ্যা দিয়ে ব্রিকস (BRICS) নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে যোগদান এবং নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্য চালুর মাধ্যমে বিকল্প অর্থনৈতিক পথ তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন। চ্যাথাম হাউস ও জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থন ছাড়া একতরফা মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ইরানকে দমিয়ে রাখা যাবে না, বরং ট্রাম্প এমন এক অর্থনৈতিক লড়াইয়ে আটকে পড়েছেন যেখান থেকে সহজে বের হওয়ার উপায় নেই।




























