
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: সাগরের নীল জলরাশি আর আকাশের সীমাহীন মেলবন্ধন উপভোগ করতে গিয়ে এক নিমেষেই নিভে গেল তাজা এক জীবন। কক্সবাজারের কলাতলীর দরিয়ানগর এলাকায় প্যারাসেলিং করার সময় ঝুলন্ত নিরাপত্তা হারনেস ছিঁড়ে সমুদ্রের পানিতে আছড়ে পড়ে অক্ষর শৌভিক রায় (৩১) নামের এক পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের সাথে আনন্দভ্রমণ পরিণত হলো চিরকালের কান্নায়।
শনিবার (১ আগস্ট) বেলা ১টার দিকে দরিয়ানগরের ‘ফরিদের প্যারাসাইলিং’ পয়েন্টে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত পর্যটক অক্ষর শৌভিক রায় খুলনা সদর থানার বানিয়াখামার এলাকার শেখর রায়ের ছেলে। তিনি পরিবার ও বন্ধুদের ৯ সদস্যের এক পর্যটক দলের সাথে কক্সবাজারে ঘুরতে এসেছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, রাইডে ওঠার পর প্যারাসেলিংটি শূন্যে উড়াল দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা বেল্ট আলগা হয়ে অক্ষরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুলে যায়। তিনি কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই দ্রুতগতিতে ওপর থেকে সাগরে আছড়ে পড়েন। পরে ‘সি-স্পোর্টস’ ও প্যারাসেলিং পরিচালনাকারী ব্যক্তিরা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে বেলা ২টা ১০ মিনিটে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্মরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পর্যটকের এমন করুণ মৃত্যুর খবরে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ জুড়ে স্বজনদের বুকফাটা আহাজারিতে এক শোকাচ্ছন্ন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দরিয়ানগরে প্যারাসেলিংয়ের সময় ছিটকে পড়ে মারাত্মক আহত ওই পর্যটককে হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি মারা যান। মরদেহ বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে এবং দুর্ঘটনার নেপথ্য কারণ উদঘাটনে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মোহাম্মদ সহেল জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর পূর্বেই অতিরিক্ত আঘাত ও পানিতে ডুবে শৌভিকের মৃত্যু হয়েছিল।
এদিকে সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের বিনোদনের নামে চলা এমন ঝুঁকিপূর্ণ রাইড নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় অধিবাসী ও সচেতন মহল। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারে ফিটনেসবিহীন সরঞ্জাম দিয়ে লাইসেন্সহীন প্যারাসেলিং চালানো হলেও প্রশাসনের শক্ত কোনো তদারকি নেই। অতীতেও বেশ কয়েকটি বড় দুর্ঘটনার পর সাময়িক বন্ধের লোক দেখানো নোটিশ জারি করা হলেও কিছুদিন পরেই অলৌকিকভাবে ফের চালু হয়ে যায় অনিরাপদ এ রাইডগুলো।




























