
আওয়ার টাইমস নিউজ।
নিউজ ডেস্ক: মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি হাফেজদের সাফল্য নতুন করে দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছে। প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের চারজন প্রতিনিধি অংশ নিয়ে সবাই বিজয়ী হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া প্রথম স্থান অর্জন করেছেন এবং আরও তিনজন বিভিন্ন শাখায় তৃতীয় হয়েছেন।
এই বিশ্বজয়ী হাফেজদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর ভাষ্য, কোরআনের হাফেজরা আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরছেন, তাই তাঁদের সম্মানিত করা হলে মূলত বাংলাদেশই সম্মানিত হবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত সংবর্ধনা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান। তাঁর পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী বাংলাদেশি হাফেজদের এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়। একই দিনে অন্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও এ সংবর্ধনা আয়োজনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আন্তর্জাতিক সাফল্য অর্জনকারীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। কিন্তু কোরআনের হাফেজরা বারবার বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে সাফল্য অর্জন করলেও তাঁদের জন্য রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তেমন উদ্যোগ দেখা যায়নি।
তিনি জানান, সংসদে বিরোধীদলীয় সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদও বিজয়ী হাফেজদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করার দাবি জানিয়েছেন। সেই দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সরকারের প্রতি দ্রুত তাঁদের সম্মান জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, শুধু একটি সংবর্ধনার মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ না রেখে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে যারা সাফল্য অর্জন করেছেন, তাদের যথাযথ সম্মান দেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত। ভবিষ্যতে এ ধরনের অর্জনকে আরও উৎসাহিত করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মক্কায় এবারের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের চারজনের সবাই বিজয়ী হওয়াকে তিনি দেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন। বিজয়ীদের নাম ঘোষণার সময় পবিত্র বায়তুল হারামে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা প্রদর্শিত হওয়াকে তিনি বিশেষ মর্যাদার বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, নৈতিক শিক্ষার বিকাশে ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কওমি শিক্ষাব্যবস্থা এবং হিফজুল কোরআনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের যথাযথ সহযোগিতা করা সরকারের দায়িত্বের অংশ হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
মাদ্রাসা শিক্ষার সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির। তাঁর মতে, অনেক শিক্ষার্থী বর্তমানে মাদ্রাসার পাশাপাশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। এ ধরনের সমন্বিত শিক্ষাকে আরও উৎসাহিত করা প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি প্রতিযোগীদের সহযোগিতাকারী বিদেশি শিক্ষকদেরও সুযোগ পেলে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মানিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশ্বজয়ী হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, তাঁরা মক্কাসহ বিভিন্ন জায়গায় সম্মান পেয়েছেন। তবে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে এখনো কোনো সংবর্ধনা পাননি। বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে দেওয়া সংবর্ধনার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
জাকারিয়ার শিক্ষক মুফতি আব্দুল কাইয়ুমও ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হয়ে সাফল্য অর্জনকারী হাফেজদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করার আহ্বান জানান।
এবারের কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হাফেজদের সাফল্য ইতোমধ্যে দেশের ধর্মীয় ও শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ১৩৩টি দেশের ৩৩৪ জন
প্রতিযোগীর অংশগ্রহণের মধ্য থেকে বাংলাদেশের নুরুদ্দিন জাকারিয়ার প্রথম স্থান অর্জনও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে।




























