
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: খাগড়াছড়ির রামগড়ে নির্মাণাধীন স্থলবন্দর ঘিরে গুরুতর পরিবেশ ধ্বংসের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ভারতের স্বার্থে নেওয়া এই প্রকল্প বাস্তবায়নে নির্বিচারে পাহাড় কেটে জমি ভরাট করা হচ্ছে, অথচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রামগড় স্থলবন্দর এলাকা থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরের অন্তত তিনটি পাহাড় পুরোপুরি কেটে ফেলা হয়েছে। এসব পাহাড়ের মাটি রাতের আঁধারে ট্রাকে করে এনে প্রায় ১০ একর জমি ভরাট করা হয়েছে। টেন্ডার অনুযায়ী যেখানে নদীর বালি দিয়ে ভরাট করার কথা ছিল, সেখানে পাহাড়ি মাটি ব্যবহার করায় প্রকল্পের মান ও স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এই স্থলবন্দর প্রকল্পটি পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভারতের আগ্রহে গ্রহণ করা হয়। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার এটিকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ আখ্যা দিয়ে লাভ-ক্ষতি পুনর্মূল্যায়নের ঘোষণা দেয়। সে সময় কাজ কিছুটা থেমে গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে আবার জোরেশোরে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দায় এড়াতে সাব-ঠিকাদারের ওপর দোষ চাপাচ্ছে, আর প্রশাসন বলছে, কাজ প্রায় শেষের পথে। এতে পাহাড় ধস, পরিবেশ বিপর্যয় ও প্রাণহানির আশঙ্কা বাড়ছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী ও বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বালুর পরিবর্তে পাহাড়ি মাটি দিয়ে ভরাট করায় শতকোটি টাকার এই অবকাঠামোর স্থায়িত্ব মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পাহাড়ি মাটির কমপ্যাকশন কম হওয়ায় ভবিষ্যতে জমি দেবে যাওয়া, ফাটল সৃষ্টি এবং স্থাপনার ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
ইঞ্জিনিয়ারিং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভরাটকাজে মানহীন উপকরণ ব্যবহার করলে পুরো প্রকল্পই অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে, যার দায় শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে।
রামগড় পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে একাধিক পাহাড় সম্পূর্ণ কেটে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যদিও উপজেলা প্রশাসন বলছে, একবার অভিযানে জরিমানা করা হয়েছে এবং অভিযোগ তদন্তাধীন।
একতরফা লাভ ভারতের
ভৌগোলিক বাস্তবতায় রামগড় বন্দর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রামগড় হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে ভারতের আগরতলা ও গোহাটির দূরত্ব তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ফলে এই বন্দর চালু হলে ভারত সহজেই ট্রানজিট সুবিধা পাবে, কিন্তু বাংলাদেশের লাভ কতটা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রামগড় বন্দর কার্যকর হলে ভারত একচেটিয়াভাবে সুবিধা ভোগ করবে, আর বাংলাদেশ পড়বে পরিবেশগত, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ঝুঁকিতে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের সতর্কতা
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, রামগড় এলাকা বাংলাদেশের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। এখানে স্থলবন্দর ও সেতু নির্মাণের মাধ্যমে সীমান্তের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা দুর্বল হয়েছে। ভুল সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেছেন।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষের দিকে। তবে বন্দর কবে চালু হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।




























