
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগের দিন দেশের পুরো রাজনৈতিক ও নির্বাচন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে এক ‘শান্তিপূর্ণ বিপ্লব’ বা ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের’ ডাক দিয়েছেন দেশটির বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী ও শিক্ষা সংস্কারক সোনম ওয়াংচুক। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় তিনি ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত ও বিশ্বমঞ্চে সম্মানিত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার স্বার্থে কট্টর দুর্নীতিগ্রস্তদের বদলে সৎ, নির্ভীক ও নীতিবান নেতৃত্ব নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন। ওয়াংচুকের এই বিস্ফোরক আহ্বানের পর দিল্লির রাজনীতির শীর্ষ মহলে নতুন করে অস্বস্তি সৃষ্টি হয়েছে।
সোনম ওয়াংচুক উদ্বেগের সাথে প্রকাশ করেন যে, ভারতের বর্তমান পার্লামেন্টের প্রায় অর্ধেক এমপির বিরুদ্ধেই বিভিন্ন অপরাধমূলক মামলা রয়েছে, যার এক-তৃতীয়াংশের বিরুদ্ধেই রয়েছে খুন, ধর্ষণ ও অপহরণের মতো গুরুতর অভিযোগ। এমন নেতৃত্ব দিয়ে একটি দেশ উন্নত হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টানেন। তিনি জানান, ৫০ বছর আগে যেসব দেশ ভারতের পেছনে বা সমপর্যায়ে ছিল, তারাও আজ মাথাপিছু জিডিপির দিক থেকে ভারতকে টপকে বহু দূর এগিয়ে গেছে।
তিনি স্পষ্ট করেন, এই সমস্যা কেবল কোনো নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের নয়, বরং পুরো ব্যবস্থারই বড় ব্যর্থতা। ২০১২-১৩ সালের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের পর কেন্দ্রে ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও দুর্নীতি ও অবিচার বন্ধ হয়নি, বরং তা আরও দ্বিগুণ রূপ ধারণ করেছে। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগকে তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের জয় হিসেবে দেখলেও কড়া বার্তা দেন যে, শিক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন না হলে দেশের ভবিষ্যৎ এভাবেই পিছিয়ে থাকবে। সুশাসন ফিরিয়ে আনতে ও দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট বদলে দিতে সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ এলাকার সবচেয়ে যোগ্য, নির্ভীক ও নিঃস্বার্থ ব্যক্তিদের নাম প্রস্তাব করে এই নতুন আন্দোলনে শরিক হওয়ার অনুরোধ জানান ‘থ্রি-ইডিয়টস’ খ্যাত এই লদাখী সংস্কারক।




























