
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ফি/লিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ডে শোকের কোনো শেষ নেই, প্রতিটি দিনই সেখানে নতুন কোনো পরিবারের কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে উঠছে।
এমনই এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে যেখানে এক ছোট্ট ফিলিস্তিনি মেয়ে তার মৃত ভাইয়ের নিথর দেহের ওপর আছড়ে পড়ে কাঁদছে।
ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, গোলাপি রঙের ফুল ক্লিপ চুলে গোঁজা ফুটফুটে মেয়েটি চোখ বন্ধ করে থাকা তার ভাইয়ের গাল ছুঁয়ে তীব্র বেদনায় চিৎকার করছে।
তার এই বুকফাটা আর্তনাদ ও কান্নার দৃশ্য উপস্থিত প্রত্যেকটি মানুষের চোখকে অশ্রুসজল করে তুলেছে এবং পুরো এলাকায় এক স্তব্ধতা নেমে এসেছে।
ঠিক পেছনেই দেখা যাচ্ছে এক তরুণকে, যিনি মাথায় কালো ক্যাপ পরে এই নি/র্মম বিয়োগান্তক দৃশ্য সহ্য করতে না পেরে দুই হাতে মুখ ঢেকে কাঁদছেন।
সেখানে উপস্থিত অন্যান্য স্বজন ও প্রতিবেশীরাও এই অবুঝ শিশুদের এমন করুণ পরিণতি দেখে নিজেদের চোখের জল ধরে রাখতে পারছেন না।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল এক জানাজার নামাজের জমায়েত লক্ষ্য করে ইসরাইলি বিমান থেকে অতর্কিত ও বর্বর হামলা চালানো হয়।
পবিত্র ও শোকাবহ একটি ধর্মীয় আচার পালনের মুহূর্তে অ/ভিশপ্ত জা/তি ই/সরাইল কাপুরুষোচিত বিমান হামলায় মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ রক্তাক্ত হয়ে ওঠে।
হামলার আকস্মিকতায় জানাজায় শরিক হওয়া সাধারণ মানুষ কিছু বুঝে ওঠার আগেই বোমার আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে যান।
উদ্ধারকারীদের দেওয়া সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, জানাজার ওপর চালানো এই নৃ/শংস হামলায় ঘটনাস্থলেই সাতজন ফিলিস্তিনি নাগরিক শাহাদাত বরণ করেছেন।
নিহতদের মধ্যে নারী ও কোমলমতি শিশুও রয়েছে বলে জানা গেছে, যাদের নিথর দেহ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর স্বজনদের মাঝে মাতম শুরু হয়।
সাধারণত যুদ্ধ বা সংঘাতের সময়েও ধর্মীয় আচার কিংবা শেষকৃত্যের ওপর হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
কিন্তু বিশ্ব সম্প্রদায়ের নীরবতার সুযোগ নিয়ে ফি/লিস্তিনি ভূখণ্ডে একের পর এক যুদ্ধাপরাধের মতো ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে দখলদার বাহিনী।
এই নির্মম ছবিটি আরও একবার প্রমাণ করে যে ফি/লিস্তিনের মাটিতে সাধারণ মানুষের জীবন কতটা সস্তা এবং অনিরাপদ হয়ে পড়েছে।
যে বয়সে এই মেয়েটির খাতা-কলম নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল, সেই বয়সে তাকে আজ নিজের ভাইয়ের রক্তাক্ত লাশ ছুঁয়ে কান্না করতে হচ্ছে।
হাসপাতাল চত্বরে লাশগুলো সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখার পর যখন শেষ বিদায়ের পালা আসে, তখন এই বোনের কান্না উপস্থিত কাউকেই ঠিক থাকতে দেয়নি।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানালেও মাঠ পর্যায়ে হামলা থামানোর কোনো কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নিহতদের জানাজা পুনরায় সম্পন্ন করার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, তবে চারপাশের আকাশ তখনো ড্রোনের শব্দে কাঁপছিল।
একটি নি/ষ্পাপ শিশুর এই অশ্রুসজল চোখ যেন পুরো বিশ্বের বিবেকহীন নীরবতার বিরুদ্ধে এক জ্বলন্ত ও নির্বাক প্রতিবাদ।
ফিলিস্তিনের প্রতি ঘরে ঘরে চলা এই লাশের মিছিল আর কত দীর্ঘ হলে বিশ্বনেতাদের ঘুম ভাঙবে, সেই প্রশ্নই এখন বাতাসে ভাসছে।
সূত্র: আলজাজিরা, কুদস নিউজ নেটওয়ার্ক ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম।


























