
আওয়ার টাইমস নিউজ।
নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কুলাউড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর গুলিতে এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় সীমান্ত নিরাপত্তা ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। নিহত যুবকের নাম তারা মিয়া (২০)। তিনি কুলাউড়া উপজেলার মুরইছড়া বস্তি এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে।
রোববার (৯ আগস্ট) ভোররাতের দিকে কুলাউড়া উপজেলার আলীনগর সীমান্তের ১৮৪৫ নম্বর ৬৩ এস পিলারের ওপারে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মাগুরুলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, ভোররাতে তারা মিয়াসহ চার থেকে পাঁচজনের একটি দল সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। বিজিবির তথ্যমতে, তারা আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় নাসিরুদ্দিন পাতার বিড়ি আনতে সেখানে গিয়েছিল।
দলটি সীমান্তের প্রায় ৫০০ গজ ভেতরে মাগুরুলী এলাকায় পৌঁছালে ভারতের ১৯৯ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের মাগুরুলী ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে বিজিবি জানিয়েছে। এতে তারা মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
গুলির ঘটনার পর দলের অন্য সদস্যরা সেখান থেকে পালিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ফিরে আসেন এবং আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। বিজিবির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, নিহত তারা মিয়ার বিরুদ্ধে কুলাউড়া থানায় একটি মামলা রয়েছে।
এদিকে গুলিতে নিহত যুবকের মরদেহ বিএসএফ নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন শ্রীমঙ্গল ৪৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, মরদেহ ফেরত আনার বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে বিজিবির আলোচনা চলছে।
সীমান্তে গুলির ঘটনা নিয়ে নতুন প্রশ্ন? তারা মিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তে অনুপ্রবেশের মতো ঘটনা এবং তার জেরে প্রাণহানির বিষয়টিও সামনে এসেছে।
বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্রনীতি ও সীমান্ত নিরাপত্তায় কী ধরনের পরিবর্তন এনেছে, তা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন উঠছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, দীর্ঘ আন্দোলন ও আত্মত্যাগের পর দেশের মানুষ যে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ প্রত্যাশা করেছিল, সীমান্তে এমন প্রাণহানির ঘটনা সেই প্রত্যাশার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ?
তবে এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির সীমান্ত অতিক্রম এবং নিষিদ্ধ পণ্য আনার অভিযোগের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আসা জরুরি। একই সঙ্গে সীমান্তে প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগের পরিস্থিতি কীভাবে তৈরি হয়েছিল এবং গুলি চালানোর প্রয়োজনীয়তা ছিল কি না, সেটিও নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বিজিবি ও বিএসএফের আলোচনার মাধ্যমে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
জনতার প্রশ্ন: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সাধারণ বাংলাদেশি নাগরিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে কার্যকর পরিবর্তন কতটা এসেছে? সীমান্তে আর কোনো প্রাণ যেন না ঝরে, সে জন্য দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা কি আরও জোরদার করা হবে?
সূত্র: বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র।




























