
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরবের উদ্যোগে গঠিত নতুন বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান এই পথগুলোকে সুরক্ষার আওতায় আনতেই বিশ্বমঞ্চে এই নতুন মেরুকরণ। বাংলাদেশের পাশাপাশি বিশ্বের আরও ১৩টি দেশ এই ঐতিহাসিক জোটে একাত্মতা প্রকাশ করে অংশ নিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনার ফলে বৈশ্বিক মুক্ত বাণিজ্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ঘন ঘন জাহাজ আক্রমণ এবং আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতি যখন মারাত্মক চাপে, ঠিক তখনই সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিল। এই জোটের মূল লক্ষ্যই হলো আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অবৈধ অবরোধ প্রতিহত করে মুক্ত বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন সচল রাখা।
সৌদি আরবের রাজধানী বা নির্ধারিত সদর দপ্তর থেকে পরিচালনা করা এই প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ ছাড়াও তুরস্ক, পাকিস্তান, মিসর, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান, জিবুতি, সোমালিয়া, ইয়েমেন, সুদান ও কোমোরোস সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়েছে।
অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে নিয়মিত সামরিক গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ কৌশলগত পরিকল্পনা, সমন্বিত নৌ-মহড়া এবং সামুদ্রিক প্রতিরক্ষামূলক অভিযান পরিচালনা করা হবে। এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথকে নিরাপদ রাখার ক্ষেত্রে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সম্মিলিত প্রতিশ্রুতি এবং নতুন ভূ-রাজনৈতিক শক্তির বড় প্রমাণ।
সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলা এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়। এই রুটে সামান্যতম অস্থিতিশীলতা তৈরি হলেও বিশ্ব বাজারে হু হু করে বাড়ে পণ্যের দাম। ফলে সৌদি নেতৃত্বাধীন এই প্রতিরক্ষামূলক জোট বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থায়িত্ব ফেরাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ এই জোটে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক অবস্থান আরও জোরদার হলো।
সূত্র: আল-জাজিরা।




























