
আওয়ার টাইমস নিউজ।
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ভার্চুয়াল জগতের ফাঁদে পড়ে মাত্র ১১ বছর বয়সে ফেসবুকে এক যুবকের প্রেমে জড়িয়ে পড়েছিল অটোরিকশাচালক জুয়েল খানের মেয়ে অনামিকা আক্তার জুঁই। পরিচয়ের কিছুদিন পরই ফুসলিয়ে তাকে পালিয়ে নিয়ে বিয়ে করে ২২ বছরের যুবক শাকিল। ফুটফুটে এক ছেলেসন্তানের জন্ম দিয়ে মাত্র ১৩ বছর বয়সে মায়ের খাতা খোলে অবুঝ কিশোরী জুঁই। কিন্তু সংসার জীবনের আনন্দ তো দূরের কথা, সন্তানের বয়স ৭ মাস হতেই চরিত্রহীনতার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে এবং গায়ে হাত তুলে জুঁইকে ঘর থেকে তাড়িয়ে দেয় শাকিল ও তার পরিবার। এমনকি কেড়ে নেওয়া হয় তার কোল থেকে অবুঝ শিশুপুত্রকেও।
পরবর্তীতে সন্তানকে ফিরে পেতে আইনি লড়াইয়ে নামেন কিশোরী জুঁই ও তার পরিবার। দীর্ঘ আড়াই মাস ধরে অবুঝ শিশুটি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পর, সম্প্রতি ঢাকা চিফ লিগ্যাল এইড আদালতের নির্দেশে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়। বিচারক সায়েম খানের মানবিক এই আদেশে সন্তান ফিরে পেলেও, প্রশ্ন থেকেই যায়, এত ছোট বয়সে জুঁইয়ের জীবনের এই মর্মান্তিক পরিণতির জন্য আসলে দায়ী কে?
কেন এই করুণ পরিণতি? সমাজের ভয়াবহ অবক্ষয়ের নেপথ্য কারণ
আজকের সমাজে জুঁইয়ের মতো অবুঝ কিশোর-কিশোরীদের এমন ধ্বংসাত্মক পরিণতির নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে বহুমুখী পারিবারিক ও
সামাজিক সংকটঃ
১. অনিয়ন্ত্রিত মোবাইল ও ইন্টারনেটের অপব্যবহার, আজকের অনলাইন যুগে কোমলমতি শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে ইন্টারনেট সংযোগসহ স্মার্টফোন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা গেমের আড়ালে শিশুরা অতি অল্প বয়সেই বয়সের চরম অসঙ্গতিপূর্ণ বিষয়বস্তুর মুখোমুখি হচ্ছে। সাইবার জগতের প্রলোভনে পড়ে ভালো-মন্দের তফাত বোঝার আগেই তারা আবেগের বশে এমন ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে পুরো জীবন দিয়ে।
২. মা-বাবার অসচেতনতা ও তদারকির অভাব
জীবিকার তাগিদে বা ব্যস্ততার কারণে অনেক মা-বাবাই সন্তান কার সঙ্গে মিশছে, মোবাইলে কী করছে বা কার সঙ্গে মেলামেশা করছে—সে বিষয়ে নজর রাখতে পারছেন না। জুঁইয়ের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে মা প্রবাসী এবং বাবা জীবিকার তাগিদে বাইরে থাকতেন। পারিবারিক এই তদারকি ও বন্ধুভাবাপন্ন সম্পর্কের অভাবেই শিশুরা বাইরের চটকদার প্রলোভনে দ্রুত বিপথগামী হয়।
৩. ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার অভাব
যেকোনো সমাজের মূল ভিত্তি হলো নৈতিকতা ও ধর্মীয় অনুশাসন। পরিবার থেকে শিশুদের যদি সঠিক ধর্মীয় শিক্ষা, শালীনতা এবং পাপ-পুণ্যের বোধ না শেখানো হয়, তবে তাদের ভেতর মানবিক মূল্যবোধ গড়ে ওঠে না। সঠিক ধর্মীয় দিকনির্দেশনার অভাবে শিশুরা খুব সহজেই চারিত্রিক বিচ্যুতি ও অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
৪. সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিবাদের অভাব
আশেপাশে অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রেম, পালিয়ে যাওয়া বা বাল্যবিয়ের ঘটনা ঘটলেও সমাজ প্রায়শই নীরব ভূমিকা পালন করে। সময়মতো আইনি ও সামাজিক প্রতিরোধ না গড়ে তোলার কারণে শাকিলদের মতো অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ার সাহস পায় এবং জুঁইদের মতো অজস্র নিষ্পাপ জীবন অকালে ঝরে পড়ে।




























