
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্টঃ দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের আড়ালে লুকিয়ে থাকা নীরব কষ্ট, মানসিক যন্ত্রণা আর অব্যক্ত আর্তনাদের এক হৃদয়বিদারক স্বীকারোক্তি সামনে এলো। ১৬–১৭ বছরের বিবাহিত জীবনের ইতি টানার সিদ্ধান্ত জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন লেখা প্রকাশ করেছেন মিল্টন সমাদ্দার। ব্যক্তিগত এই ঘোষণায় উঠে এসেছে সংসার জীবনের অদৃশ্য চাপ, প্রতিদিনের অশান্তি এবং শান্তির জন্য নেওয়া এক চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা।
নিচে তার প্রকাশিত লেখাটি হুবহু তুলে ধরা হলো। সংসার জীবনের একটি কঠিন সিদ্ধান্ত।
প্রিয় শুভাকাঙ্ক্ষীগণ, ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সকলকে একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের কথা জানাতে চাই।
দীর্ঘ ১৬/১৭ বছরের বিবাহিত জীবন শেষে আমি আমার সংসার জীবনের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ নেওয়া নয়, কিংবা আবেগের বশে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্তও নয়। এটি এসেছে বহু বছরের নীরব কষ্ট, অশান্তি, ভুল বোঝাবুঝি, সন্দেহ এবং মানসিক চাপের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে।
সত্যি কথা বলতে, এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে এমন একটি দিনও মনে পড়ে না, যেদিন আমি মানসিক শান্তি অনুভব করেছি। প্রতিদিনের ঝগড়া, অস্থিরতা আর অব্যক্ত কষ্ট ধীরে ধীরে সংসার জীবনকে বিষের মতো করে তুলেছিল। তবুও সমাজ কী বলবে, আত্মীয়-স্বজন, প্রিয়জন কিংবা সহকর্মীরা কী মনে করবে-এই ভয়ে বারবার নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি, ধৈর্য ধরেছি, সংসারটা টিকিয়ে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।
কিন্তু মানুষ তো যন্ত্র নয়। একসময় ধৈর্যেরও সীমা থাকে। আজ আমি সেই জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছি, যেখানে আর নিজেকে ভেঙে টিকিয়ে রাখার শক্তি নেই। জীবনে আর কয়দিনই বা বাঁচবো-এই বাকি সময়টুকু অন্তত শান্তিতে বাঁচতে চাই। প্রতিদিন অজুহাতের ঝগড়া, অশান্তি আর মানসিক নির্যাতনের মধ্যে আর থাকতে পারছি না।
এই কারণে আমি আমার বর্তমান স্ত্রী মিঠু হালদারকে ডিভোর্স দিয়ে এই সংসার জীবনের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
আমি জানি, এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে নানা কথা হবে। হয়তো শুরু হবে একে অপরের প্রতি অভিযোগ, কাদা ছোড়াছুড়ি, নানান মন্তব্য। এসবের জন্য আমি মানসিকভাবে প্রস্তুত। এখন আর মানুষ কী ভাবলো, কী বললো-তা নিয়ে ভাবার মতো শক্তি বা আগ্রহ আমার নেই।
একটি বিষয় স্পষ্ট করে বলতে চাই-আমারও দোষ আছে, এবং সেটি আমি স্বীকার করি। আমি কখনোই আমার স্ত্রীকে সরকারি নার্সিং চাকরি করাতে আগ্রহী ছিলাম না। এর পেছনে কোনো হীনমন্যতা বা বাধা দেওয়ার মানসিকতা ছিল না। আমাদের দুটি ছোট সন্তান রয়েছে। দীর্ঘ সময় মা হসপিটালে থাকলে সন্তানদের পড়াশোনা, দেখাশোনা-সবকিছুই ভীষণভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। তারা ক্লাসে পিছিয়ে পড়ছিল, পড়াশোনায় মন বসাতে পারছিল না।
এছাড়াও আমার স্ত্রীর শরীরে একাধিক জটিল ও কঠিন রোগ রয়েছে। এমন অসুস্থ শরীর নিয়ে দীর্ঘ সময়ের কঠিন চাকরি করাটা আমি তার কিংবা আমাদের পরিবারের জন্য নিরাপদ বা প্রয়োজনীয় বলে মনে করিনি। হয়তো এটাই আমার সবচেয়ে বড় ভুল-কিন্তু এই ভুলের পেছনেও ছিল পরিবার আর সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা।
এই লেখা কোনো অভিযোগ নয়, কারো প্রতি আঙুল তোলাও নয়। এটি শুধুমাত্র একজন মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট, ভাঙা মন আর শান্তির জন্য নেওয়া শেষ সিদ্ধান্তের কথা।
আমি সকলের কাছে দোয়া চাই-যেন জীবনের এই কঠিন অধ্যায় পেরিয়ে সামনে অন্তত কিছুটা শান্তি খুঁজে পাই।
ধন্যবাদ সবাইকে, আমার কথাগুলো ধৈর্য নিয়ে পড়ার জন্য।































