
আওয়ার টাইমস নিউজ।
নিউজ ডেস্ক: নারী অধিকার ও সংখ্যালঘুদের বিষয়ে কোনো ধরনের আপস হলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে গড়ে ওঠা জোট টিকবে না বলে স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম প্রার্থী নাহিদ ইসলাম।
ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য উইক-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। সম্প্রতি ওই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়।
সাক্ষাৎকারে নাহিদ ইসলামকে প্রশ্ন করা হয়, জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে চরম ডানপন্থী আদর্শের অভিযোগ এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কীভাবে মোকাবিলা করা হবে। জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান জোট এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
নির্বাচনী সহযোগিতা এবং নির্বাচন-পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। প্রয়োজন হলে এসব বিষয় ইশতেহারে প্রতিফলিত হবে। আপাতত দলগুলোর আলাদা ইশতেহার রয়েছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জামায়াত তাদের পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছে এবং জানিয়েছে যে তারা পুরোনো মূল আদর্শের ভিত্তিতে সরকার গঠন করতে চায় না। দলটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি এবং জাতীয় সরকার গঠনের কথাও বলছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নারী অধিকার ও সংখ্যালঘুদের বিষয়ে এনসিপির মৌলিক অবস্থান থেকে যদি সরে আসতে হয়, তাহলে সেই জোট টিকবে না।
এনসিপির আহ্বায়ক জানান, জোটের অংশ হিসেবে তারা ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নতুন দল হওয়ায় আসন জয়ের সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এনসিপি ও জোট সম্মিলিতভাবে ভালো ফল করবে এবং নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হবে।
জোটটি কেবল নির্বাচনী নাকি আদর্শিক ভিত্তিও রয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই জোট মূলত নির্বাচনী সমন্বয়ের জন্য গঠিত। তবে কিছু সাধারণ এজেন্ডা রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সংস্কার কার্যক্রম। এ লক্ষ্যে একটি ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়েছে এবং একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাবে জোট।
তিনি আরও বলেন, সরকার গঠন করতে পারলে যৌথভাবে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হবে। দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা—বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশের আধিপত্যের বিরোধিতা—জোটের গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডার অংশ।
ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপি ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও কার্যকর সম্পর্ক চায়। তবে সীমান্ত হত্যা, পানি বণ্টন বিরোধ এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে ভারতের বাংলাদেশ নীতি পরিবর্তন করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন চাওয়া এনসিপির নির্বাচনী ইশতেহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হবে। ভারত যদি শেখ হাসিনা এবং যাদের বিরুদ্ধে রায় হয়েছে তাদের ফেরত দেয়, তাহলে সুসম্পর্ক সম্ভব। অন্যথায় দুই দেশের সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।




























