
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: ফেনীর পরশুরামে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে এক মাসের বেশি সময় কারাভোগ করার পর শেষ পর্যন্ত নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন স্থানীয় ইমাম ও মক্তব শিক্ষক মোজাফফর আহমদ। ডিএনএ পরীক্ষায় অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় আদালত তাকে অব্যাহতি দিয়েছে। পরে তদন্তে উঠে আসে, কিশোরীর সন্তানের জৈবিক পিতা তারই সহোদর বড় ভাই।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ঘটনাটি আড়াল করতে এবং প্রকৃত অভিযুক্তকে বাঁচাতেই ইমাম মোজাফফরের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। দীর্ঘ তদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার পর আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে তার নাম বাদ দেওয়া হয় এবং কিশোরীর বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অভিযোগ আনা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালে। ওই সময় কিশোরীর পরিবার স্থানীয় ইমাম মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করে। মামলার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি এক মাস দুই দিন কারাভোগ করেন। এ ঘটনায় চাকরি হারানোর পাশাপাশি সামাজিকভাবেও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন তিনি।
পরে সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষায় নবজাতক শিশুর সঙ্গে মোজাফফরের কোনো ডিএনএ মিল পাওয়া যায়নি। এরপর কিশোরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে স্বীকার করে, দীর্ঘদিন ধরে তার বড় ভাই তাকে নির্যাতন করে আসছিল।
পরবর্তীতে অভিযুক্ত বড় ভাইকে গ্রেপ্তার করা হলে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ডিএনএ পরীক্ষায় শিশুর সঙ্গে তার ৯৯.৯৯ শতাংশ মিল পাওয়া যায়।
নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পর মোজাফফর আহমদ বলেন, এই ঘটনার কারণে তিনি আর্থিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। মামলার খরচ চালাতে বসতভিটাও বিক্রি করতে হয়েছে। জেল থেকে বের হওয়ার পর কোথাও চাকরিও পাননি বলে জানান তিনি।
তিনি প্রকৃত দোষীদের কঠোর শাস্তির পাশাপাশি সরকারের কাছে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি




























