
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করলে বিশ্বজুড়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো দখল হয়ে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাকদি।
মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এই জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের ভুল সিদ্ধান্ত হতে পারে।
নাকদির ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করে, তাহলে পরদিন সকালেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো দখল হয়ে যাবে।
তিনি দাবি করেন, বর্তমান বিশ্বের পরিস্থিতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের মতো নয়। মানুষের মধ্যে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতনতা তৈরি হয়েছে এবং এমন কোনো ভয়াবহ অপরাধ সহজে মেনে নেওয়া হবে না।
তবে বিশ্বজুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো কারা বা কীভাবে দখল করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি নাকদি। পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে ইরানের ভিন্ন অবস্থান সাক্ষাৎকারে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও কথা বলেন আইআরজিসির এই কর্মকর্তা। তিনি দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক বোমার প্রয়োজন নেই।
তার বক্তব্য, ইরানের লক্ষ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি নয়। বরং দেশটির আদর্শ ও মূল্যবোধের বিস্তারই তাদের মূল লক্ষ্য।
এদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে আসছে তেহরান। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত এই জলপথকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, দেশটির অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা কঠিন হতে পারে। ফলে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে। পরে জুনে যুদ্ধবিরতি নিয়ে সমঝোতা হলেও জুলাইয়ে হরমুজ প্রণালি-সংক্রান্ত চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এরপর থেকেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার পারমাণবিক হামলার সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে দেওয়া এই সতর্কবার্তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।































