
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: দেশজুড়ে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও অবৈধ অর্থ আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব খাটিয়ে কেউ পার পাবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
রাজধানীসহ সারা দেশে চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, চলমান অভিযানে রাজধানীতে গত মঙ্গলবার ১৭৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৫ জন তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ। এছাড়া চাঁদাবাজির অভিযোগে আরও ৪৮ জন এবং ছিনতাই, ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
ডিএমপি জানিয়েছে, ১ মে থেকে শুরু হওয়া অভিযানে পাঁচ দিনে মোট ৫৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, “তদবির করে কোনো চাঁদাবাজকে ছাড়ানো যাবে না। চাঁদাবাজ যে পরিচয়েরই হোক, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, কেউ যদি অপরাধীদের পক্ষে তদবির করেন, তাহলে তাকেও সন্দেহের আওতায় আনা হবে। চাঁদাবাজি বন্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেশের সব মহানগর, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলা পুলিশ সুপারদের চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা ও অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত দ্রুত শেষ করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সম্প্রতি জানিয়েছেন, চাঁদাবাজি, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত, পরিবহন, বাজার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক চাঁদাবাজ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। এসব চক্রের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তি ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।
সম্প্রতি কুমিল্লায় এক রাজনৈতিক নেতাকে চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক করা এবং রাজধানীতে হাসপাতাল থেকে চাঁদা দাবির ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
এদিকে মিরপুর, পল্লবী, শাহ আলী, রূপনগরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজদের সক্রিয় নেটওয়ার্কের তথ্যও পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব এলাকায় প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়।




























