
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: আজ পহেলা ফাল্গুন। ফুল ফুটুক আর না ফুটুক, ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আজই বসন্তের শুরু। ষড়ঋতুর দেশে বসন্ত মানেই উৎসব, রঙ আর নতুন প্রাণের আবাহন। গাছে গাছে পলাশ ও শিমুলের লাল রঙ, মানুষের মনে আনন্দের ছোঁয়া। গতকাল মাঘের শেষ দিন থেকেই দেশজুড়ে বসন্তকে বরণ করার প্রস্তুতি ও উৎসবের আমেজ দেখা গেছে।
এ বছর পহেলা ফাল্গুনের সঙ্গে একই দিনে পড়েছে ইংরেজি ক্যালেন্ডারের ১৪ ফেব্রুয়ারি। ফলে বসন্ত উৎসবের পাশাপাশি বিশ্ব ভালোবাসা দিবসও পালন করছেন দেশের তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ। দীর্ঘদিন পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই বসন্ত উৎসব যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা।
অন্যদিকে ১৪ ফেব্রুয়ারি দিনটি স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস হিসেবেও পালন করা হয়। ১৯৮৩ সালের এই দিনে মজিদ খান কমিশনের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে জয়নাল, জাফর, মোজাম্মেল, দিপালী, কাঞ্চনসহ বেশ কয়েকজন শহীদ হন। তাদের স্মরণে বিভিন্ন সংগঠন কর্মসূচি পালন করবে।
প্রতিবছর বসন্ত উৎসব ও ভালোবাসা দিবস ঘিরে একুশের বইমেলাতেও উৎসবের আবহ তৈরি হয়। তবে নির্বাচনজনিত কারণে এবছর বইমেলা পিছিয়ে যাওয়ায় বসন্তে বইমেলায় ঘোরার আনন্দ থাকছে না।
ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করে নিতে বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী বসন্ত উৎসবের আয়োজন করেছে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ। আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর-এর উন্মুক্ত চত্বরে আজ এই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
সকাল সাড়ে সাতটায় সমবেত যন্ত্র ও কণ্ঠসংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে উৎসবের সূচনা করবেন বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের শিক্ষার্থীরা। এরপর দিনভর নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন করবেন বিভিন্ন দল ও একক শিল্পীরা। শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিল্পীদের অংশগ্রহণ, বসন্ত কথন, প্রীতি বন্ধনী ও আবির বিনিময়সহ নানা আয়োজন থাকছে।
দলীয় সংগীতে অংশ নেবে রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদসহ দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন। নৃত্য পরিবেশনায় থাকবে কথক নৃত্য সম্প্রদায়, বুলবুল ললিতকলা একাডেমিসহ একাধিক নৃত্যদল। একক সংগীত ও আবৃত্তিতেও অংশ নেবেন খ্যাতনামা শিল্পীরা।
সব মিলিয়ে বসন্তের প্রথম দিনটি রাজধানীসহ সারা দেশে উৎসব, স্মরণ ও ভালোবাসার আবেশে উদযাপিত হচ্ছে।

























