
আওয়ার টাইমস নিউজ।
অর্থনীতি ডেস্কঃ সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ও দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে কিছুটা পতন লক্ষ্য করা গেছে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারী ও ক্রেতাদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে-স্বর্ণের দাম কি দীর্ঘমেয়াদে কমতেই থাকবে, নাকি এটি সাময়িক ধস?
অর্থনীতি ও পণ্যমূল্য বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পতন দীর্ঘমেয়াদি নয়। বরং এটি বাজারের স্বাভাবিক সংশোধন। তাদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় খুব শিগগিরই স্বর্ণের দাম আবার ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে এবং ভবিষ্যতে নতুন সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম মূলত নির্ভর করে ডলার সূচক, সুদের হার, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কার ওপর। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশে সুদের হার নিয়ে নীতিগত সংকেত ও স্বল্পমেয়াদি মুনাফা তোলার প্রবণতায় স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশ্বজুড়ে ঋণঝুঁকি বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতির চাপ এবং বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণ মজুত বাড়ানোর প্রবণতা স্বর্ণের দামের জন্য ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে।
বিশ্বের বড় বিনিয়োগ ব্যাংক ও স্বর্ণবাজার বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। কিছু পূর্বাভাসে আউন্সপ্রতি দাম ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার মার্কিন ডলারের কাছাকাছি যাওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলা হচ্ছে।
এই হিসাব অনুযায়ী, যদি আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম সেই পর্যায়ে পৌঁছে, তাহলে বাংলাদেশে ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম ভবিষ্যতে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে ৩ লাখ টাকা বা তারও বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও তা নির্ভর করবে ডলারের বিনিময় হার, আমদানি নীতি ও স্থানীয় বাজার ব্যবস্থাপনার ওপর।
বাংলাদেশের জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে যে দাম কমেছে, তা ক্রেতাদের জন্য স্বল্পমেয়াদে স্বস্তির। তবে যারা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ কিনে থাকেন, তাদের জন্য এটি ভবিষ্যৎ লাভের ইঙ্গিতও হতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ইতিহাস বলছে-বিশ্ব যখন অনিশ্চয়তার দিকে যায়, তখন স্বর্ণই সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ফিরে আসে। ফলে বর্তমান পতনকে স্থায়ী ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
সব মিলিয়ে বলা যায়, স্বর্ণের দামে সাম্প্রতিক ধস বাজারের সাময়িক প্রতিক্রিয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদে এর গতিপথ ঊর্ধ্বমুখী থাকার সম্ভাবনাই বেশি। বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে তাই হঠাৎ আতঙ্ক নয়, বরং বাস্তবতা ও সময় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।




























