
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: অনেক অভিভাবকেরই অভিযোগ, সন্তান বারবার বলার পরও কথা শুনতে চায় না। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সব সময় শিশুদের অবাধ্যতা এর কারণ নয়। অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের কথা বলার ধরন, নির্দেশ দেওয়ার পদ্ধতি এবং শিশুর সঙ্গে যোগাযোগের কৌশলও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শিশুদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ গড়ে তুলতে কয়েকটি সহজ পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে।
প্রথমত, একসঙ্গে অনেক নির্দেশ না দিয়ে ধাপে ধাপে কথা বলা উচিত। ছোট শিশুদের পক্ষে একসঙ্গে অনেক কিছু মনে রাখা কঠিন। তাই একটি কাজ শেষ হওয়ার পর পরবর্তী নির্দেশনা দিলে তারা সহজে অনুসরণ করতে পারে।
দ্বিতীয়ত, কথা সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘ ব্যাখ্যার পরিবর্তে সরাসরি কী করতে হবে তা বললে শিশু দ্রুত বিষয়টি বুঝতে পারে।
তৃতীয়ত, দূর থেকে চিৎকার করে নির্দেশ দেওয়ার বদলে শিশুর কাছে গিয়ে কথা বলা ভালো। চোখে চোখ রেখে বা আলতোভাবে স্পর্শ করে কথা বললে শিশুর মনোযোগ পাওয়া সহজ হয়।
চতুর্থত, একই কথা বারবার না বলাই উত্তম। বারবার মনে করিয়ে দিলে শিশু অনেক সময় ধরে নেয় যে প্রথমবার নির্দেশ মানার প্রয়োজন নেই। বরং নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা এবং ভালো আচরণের প্রশংসা করা বেশি কার্যকর।
পঞ্চমত, শোনার অভ্যাসকে আনন্দদায়ক করে তোলা যেতে পারে। খেলাধুলা বা দৈনন্দিন কাজের মধ্যেই ছোট ছোট মনোযোগভিত্তিক কার্যক্রম শিশুদের শ্রবণ দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে।
সবশেষে, সন্তানের কথাও মনোযোগ দিয়ে শোনা জরুরি। শিশুরা বড়দের আচরণ থেকেই শেখে। তাই তারা যখন কোনো অভিজ্ঞতা, অনুভূতি বা গল্প শেয়ার করতে চায়, তখন গুরুত্ব দিয়ে শুনলে তাদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মনোযোগের অভ্যাস গড়ে ওঠে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তানকে কথা শোনানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ধৈর্য ধরা, স্পষ্টভাবে কথা বলা এবং তাদের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া। এতে পারিবারিক যোগাযোগ আরও সুন্দর ও ইতিবাচক হয়ে ওঠে।




























