
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রেমিকের নির্মম মানসিক নির্যাতন ও শারীরিক বন্দিদশা থেকে বাঁচতে গিয়ে এক অবিশ্বাস্য ও লোমহর্ষক কাণ্ড ঘটিয়ে বসেছেন ২০ বছর বয়সি এক তরুণী। চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের জিয়াশিং শহরে প্রেমিকের সঙ্গে টানা কয়েক ঘণ্টার চরম তর্কবিতর্ক ও বন্দিদশা থেকে রেহাই পেতে অ্যাপার্টমেন্টের ১৮ তলার বারান্দা থেকে সোজা নিচে লাফিয়ে পড়েন তিনি। তবে সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে অলৌকিকভাবে জীবন ফিরে পেয়েছেন ওই তরুণী।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের তথ্যমতে, ভুক্তভোগী তরুণী (‘শিয়াওই’ ছদ্মনামে পরিচিত) তার সহিংস প্রেমিককে ছেড়ে নিজ শহর ইউনানে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
কিন্তু তা জানতে পেরে প্রেমিক হিংস্র হয়ে ওঠে এবং ১০ ও ১১ জুলাই রাতে শিয়াওইয়ের জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বাইরে থেকে ফ্ল্যাটটি তালাবদ্ধ করে দেয়। কোনো উপায় না পেয়ে চরম মানসিক আশঙ্কায় ১৮ তলা থেকে লাফিয়ে পড়েন তিনি।
লাফ দেওয়ার পর নিচে থাকা একটি বড় গাছ তার পতনের গতি অনেকাংশে কমিয়ে দেয় এবং একটি ঝোপের ওপর আছড়ে পড়েন তিনি। কয়েক ফুট দূরে শক্ত সিমেন্টের মেঝে থাকলেও অলৌকিকভাবে সে যাত্রায় তার প্রাণ বেঁচে যায়।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অলৌকিকভাবে বাঁচলেও পতনের চরম আঘাতে তার মাথা, ফুসফুস, যকৃৎ ও প্লীহায় মারাত্মক ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। একই সাথে তার দুই পা ও কোমরসহ শরীরের একাধিক হাড় ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে। এ পর্যন্ত দুটি জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হলেও চরম অর্থসংকটের কারণে তার পরবর্তী চিকিৎসা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শিয়াওইয়ের পরিবার জানিয়েছে, মেয়েটি এখন তার সেই মরিয়া সিদ্ধান্তের জন্য অনুতপ্ত হলেও অভিযুক্ত প্রেমিকের নির্মম আচরণই তাকে মৃত্যুকূপে ঝাঁপ দিতে বাধ্য করেছিল।




























