
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ বিভাগের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দেড় থেকে দুই মাস লোডশেডিং পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে এবং কিছু এলাকায় তা আরও বাড়তে পারে।
বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেল, কয়লা এবং এলএনজি আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। ফলে গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুৎ ঘাটতি তৈরি হচ্ছে এবং লোডশেডিং অনিবার্য হয়ে পড়ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার বিকেল ৫টায় দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ২১৮ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন ও সরবরাহ হয়েছে ১২ হাজার ৮৬৬ মেগাওয়াট। এতে প্রায় ২ হাজার ৩৫২ মেগাওয়াট ঘাটতি পূরণে লোডশেডিং করতে হয়েছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত কয়লাভিত্তিক কয়েকটি কেন্দ্রও সমস্যায় রয়েছে। ভারতের আদানি কেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি কারণে বন্ধ ছিল, যা ২৬ এপ্রিলের দিকে পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে বাঁশখালীর একটি কেন্দ্রেও বিভ্রাটের কারণে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াট উৎপাদন কমেছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, মে মাসের শুরুতে কিছু কেন্দ্র পুনরায় চালু হলে প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়তে পারে। তবে তাতেও পুরো ঘাটতি পূরণ হবে না।
সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, জ্বালানির ঘাটতির কারণে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পুরো সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহের অভাবে অনেক কেন্দ্র অর্ধেকের কম উৎপাদন করছে।
এ অবস্থায় বিদ্যুৎ বিভাগ শহর ও গ্রামে লোডশেডিং সমন্বয়ের নির্দেশ দিয়েছে, যাতে কৃষি সেচ কার্যক্রম কিছুটা হলেও সচল রাখা যায়।
অন্যদিকে জ্বালানি আমদানির ব্যয় বাড়ায় অর্থনৈতিক চাপও তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন কেন্দ্র চালু রাখতে সরকারের ভর্তুকি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে গরমের এই মৌসুমে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।


























