
আওয়ার টাইমস নিউজ।
কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ কক্সবাজারের রামু উপজেলায় দীর্ঘ এক দশক ধরে পাথর ভেবে ব্যবহার করা একটি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বছরের পর বছর ধরে ওই বস্তুটির ওপর কাপড় ধোয়ার কাজ চললেও কেউ বুঝতে পারেনি এটি হতে পারে একটি বিধ্বংসী অবিস্ফোরিত বোমা।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের উখিয়ারঘোনা তচ্ছাখালী (৮ নম্বর ওয়ার্ড) এলাকায় স্থানীয়দের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তুটি হেফাজতে নেয়।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একটি অবিস্ফোরিত বা অকার্যকর বোমা হতে পারে। বস্তুটি বর্তমানে নিরাপত্তা নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি সেনাবাহিনীকে অবহিত করা হলে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বোমাটির ভেতরে বিস্ফোরক রয়েছে কি না এবং এটি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ—তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১০ বছর আগে পাশের একটি পুকুর থেকে বস্তুটি উদ্ধার করা হয়। তখন সেটিকে সাধারণ পাথর ভেবে পুকুরপাড়ে রেখে দেওয়া হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে সেটির ওপর কাপড় ধোয়ার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
এদিকে রামুর ইতিহাস গবেষক ও আইনজীবী শিরূপন বড়ুয়া বলেন, বস্তুটির গঠন ও আকৃতি দেখে এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত বোমা বলেই মনে হচ্ছে। সে সময় জাপানি বাহিনী এই অঞ্চলে এমন বোমা ব্যবহার করেছিল।
তিনি বলেন, যদি এতে বিস্ফোরক থেকে থাকে, তাহলে জননিরাপত্তার স্বার্থে এটি নিষ্ক্রিয় করা জরুরি। আর যদি বিস্ফোরক না থাকে, তাহলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মারক হিসেবে সংরক্ষণের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা বলছেন, সামান্য অসতর্কতায় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারত।





























