
আওয়ার টাইমস নিউজ।
স্টাফ রিপোর্টার: সড়কে মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। প্রিয়জনের কাছে ফেরা, কর্মস্থলে যাওয়া কিংবা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বের হওয়া মানুষগুলো মুহূর্তের মধ্যেই পরিণত হচ্ছে লাশে। শুক্রবারের ছুটির দিনেও সিলেটের ওসমানীনগর এবং বগুড়া সদর উপজেলায় পৃথক তিনটি বিভীষিকাময় দুর্ঘটনায় নারী, শিশু, বাউলশিল্পী ও দিনমজুরসহ অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এসব দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ, যাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। স্বজনদের অঝোর কান্না আর আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে পুরো দেশের বাতাস।
১.সিলেটের ওসমানীনগরে দুই বাসের সংঘর্ষ: শিশুসহ নিহত ৯
শুক্রবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগরের কাশিকাপন এলাকায় ঘটে যায় ভয়াবহ এক সংঘর্ষ। সিলেটগামী একটি স্লিপার কোচের সঙ্গে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় যান দুটি।
এ দুর্ঘটনায় বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী, ৩ বছর বয়সী শিশু জাইফা ইসলাম এবং ২২ বছর বয়সী তরুণ প্রীতম রায়সহ মোট ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও অন্তত ৩০ জন যাত্রী।
২. বগুড়ার এরুলিয়ায় বাসচাপায় প্রাণ গেল ৭ দিনমজুরের
ভোরের আলো ফোটার আগেই বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া বাজারে ঘটে আরেক মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি। কাজের খোঁজে হাটে এসে দাঁড়িয়ে থাকা দিনমজুরদের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উঠে যায় ‘শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের’ একটি এসি বাস।
পিষে যাওয়া অসহায় ৭ শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটে এবং ১৭ জন মারাত্মক আহত হন। পেটের তাগিদে কাজ করতে এসে লাশ হয়ে ফেরা এসব খেটেখাওয়া মানুষের মৃত্যুর পর স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা দীর্ঘ চার ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। পরবর্তীতে সওজ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পিড ব্রেকার নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
৩. প্রাইভেট কারের ধাক্কায় শেষ হলো এক দম্পতির ৫০ বছর আর ৪৫ বছরের জীবনের অধ্যায়
একই দিন সন্ধ্যায় বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের এরুলিয়া বিমানবন্দর এলাকায় প্রাইভেট কারের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন এক মোটরসাইকেল আরোহী দম্পতি। নিহতরা হলেন, স্বর্ণ ব্যবসায়ী বাবুল হাসান (৫০) ও তাঁর স্ত্রী জেসমিন বেগম (৪৫)। তবে অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে তাঁদের সঙ্গে থাকা ৭ বছরের শিশু নাতি জুলকার নাইন।
পরিসংখ্যানের ভয়াল চিত্র: দায় কার?
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ও যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্যমতে, বছরের পর বছর মহাসড়কে দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর সংখ্যা কেবল বাড়ছেই। অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, মহাসড়কে বেপরোয়া গতি এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকায় রাজপথ আজ পরিণত হয়েছে কসাইখানায়।
এক দিনে ১৮টি তাজা প্রাণের এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিদায় কেবল কয়েকটি সংখ্যা নয়, ১৮টি পরিবারের ধ্বংসের দলিল। দেশবাসী এখন একটাই প্রশ্ন তুলছে, নিরাপদ সড়কের এই হাহাকার আর কত দিন চলবে? দায়িত্বশীলদের ঘুম ভাঙবে কবে?




























