
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলনে শত শত বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের পাশে থেকে সামরিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এর উত্তরে ইরান জানিয়েছে, তারা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, তবে আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র বুদ্ধিমানের সঙ্গে আলোচনার পথ বেছে নেবে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) আলজাজিরা আরবিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ওয়াশিংটন যদি আমাদের সামরিক শক্তি পরীক্ষা করতে চায়, আমরা প্রস্তুত। তবে আশা করি যুক্তরাষ্ট্র আলোচনাকে বেছে নেবে।
আরাগচি আরও বলেন, ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের দিকে ঠেলা কোনো পরিকল্পনা হলে তা বিপজ্জনক। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘটিত যুদ্ধের সময় ইরানের সামরিক প্রস্তুতি ছিল এবং এখন তা আরও বিস্তৃত।
ইরানের আন্দোলনে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা প্রবেশ করেছে, যারা বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালাচ্ছে। আন্দোলন মূলত মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হলেও, ইরান সরকার অভিযোগ করছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এ আন্দোলনকে সরকারের পতনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
বিক্ষোভকারীরা সরকারি ভবন, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আগুন দিয়েছে। তারা দেশের পতাকাও ছিঁড়ে ফেলেছে। এই সহিংসতায় শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন, পাশাপাশি শতাধিক নিরাপত্তা বাহিনী সদস্যও প্রাণ হারিয়েছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র শত শত হাজার মানুষের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যারা এটাকে ধ্বংস করতে চায়, তাদের সামনে ইরান কখনো মাথা নত করবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি ইরান বিক্ষোভকারীদের হত্যা শুরু করে, তাহলে খামেনি সরকারকে কঠোর মূল্য দিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ইসরায়েলও বিক্ষোভকারীদের ‘স্বাধীনতার সংগ্রাম’ হিসেবে অভিহিত করে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে এবং ইরানের বর্তমান সরকারের পতনের জন্য সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত দিয়েছে।




























