
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত, মানবিক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রাজধানীর বনানীতে এক অনুষ্ঠানে দলের নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করে এই ঘোষণা দেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বুধবার সন্ধ্যায় শেরাটন হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত ৮৬ পৃষ্ঠার এই ইশতেহারে ২৬টি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র নির্ধারণ করে মোট ৪১টি প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়। ইশতেহারটি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতের ভিত্তিতে প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানায় দলটি।
‘হ্যাঁ’ ও ‘না’-এর রাজনীতি
‘চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ’ স্লোগানে ঘোষিত ইশতেহারে ১০টি মৌলিক অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানে ‘হ্যাঁ’ বলা হয়েছে। বিপরীতে দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে স্পষ্টভাবে ‘না’ অবস্থান নিয়েছে দলটি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা কোনো দলীয় বিজয় চাই না। আমরা চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। বিভাজনের রাজনীতি নয়, ঐক্যের বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য।”
প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, ক্ষমার বার্তা
নিজ বক্তব্যে আবেগঘন ভাষায় জামায়াত আমির বলেন, তিনি প্রতিশোধে বিশ্বাস করেন না। “আমাকে ব্যক্তিগতভাবে আঘাত করা হচ্ছে, চরিত্র হননের চেষ্টা চলছে। কিন্তু আমি প্রতিশোধ নেব না। যারা করেছে, আমি সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েছি,” বলেন তিনি।
তার ভাষায়, প্রতিশোধের রাজনীতি দেশকে শুধু পিছিয়েই দিয়েছে। জামায়াত যুবসমাজকে সামনে রেখে রাজনীতি করতে চায়।
রাষ্ট্র সংস্কার ও সুশাসনের অঙ্গীকার
ইশতেহারে শাসনব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার, নির্বাচন ব্যবস্থার উন্নয়ন, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন ও শক্তিশালী সংসদ গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে।
মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনকে পুরোপুরি ডিজিটাল করার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।
কর্মসংস্থান ও অর্থনীতি
বেকারত্ব দূর করতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে ইশতেহারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। জামায়াতের পরিকল্পনায় রয়েছে দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প, নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা, কৃষি ও শিল্প খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রবাসে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ।
সরকারি চাকরিতে আবেদন ফি বাতিল, দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের কথাও বলা হয়েছে।
নারী, শিশু ও পরিবার
ইশতেহারে নারী নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নারী সুরক্ষা টাস্কফোর্স গঠন, নারীবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং মাতৃত্বকালীন সুবিধা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
শিশুদের জন্য নিরাপদ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের আলাদা সেবা এবং দরিদ্র গর্ভবতী নারীদের জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে।
অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রের বার্তা
ইশতেহারে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু বিভাজন নয়, বরং সবাই সমান নাগরিক। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও হিজড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়ার কথাও রয়েছে।
জনতার মতামতে ইশতেহার
দলটি জানায়, ‘জনতার ইশতেহার’ নামে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মতামত নেওয়া হয়। এতে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ তাদের প্রত্যাশা তুলে ধরেন, যা ইশতেহারে প্রতিফলিত হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এই ইশতেহার কোনো চটকদার প্রতিশ্রুতির দলিল নয়। এটি বাস্তবভিত্তিক এবং বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনার রূপরেখা।”




























