
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: দেশজুড়ে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। গত দেড় মাসে এ রোগে মোট ২৯৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১০ শিশুর প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে, যা চলতি বছরে এক দিনে মৃত্যুর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে একজন এবং উপসর্গ নিয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০ জনে, আর উপসর্গজনিত মৃত্যু বেড়ে হয়েছে ২৪৪ জন। সব মিলিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যু ২৯৪ জন।
একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১৬৬ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ৯৫ জন। এ পর্যন্ত দেশে মোট নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩১৩ জনে। অন্যদিকে উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৭ হাজার ৮১৬ জন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমার ইঙ্গিত থাকলেও মৃত্যুর হার এখনই কমবে না। তাদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় জটিলতা বাড়ছে। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হলেও আইসিইউ সংকটের কারণে রোগীদের এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরতে হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, সব ক্ষেত্রে আইসিইউ প্রয়োজন হয় না। অক্সিজেন সাপোর্ট দিয়েও অনেক রোগীকে সামাল দেওয়া সম্ভব। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা না পাওয়া এবং স্থানীয় চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়হীনতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।
স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের চিকিৎসক ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবাদাতাদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করা গেলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যেত।
এদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশে হামের টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ৮১ শতাংশের বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। খুব দ্রুত শতভাগ কভারেজ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, অতীতের টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি এবং তথ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণেই বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাদের সতর্কবার্তা, নতুন সংক্রমণ কমলেও জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে শিশুমৃত্যুর ঘটনা আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে।





























