
আওয়ার টাইমস নিউজ।
নিজস্ব প্রতিবেদক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাম্পত্য জীবন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মানসিক সুস্থতা এবং সুখী সংসার গড়ার পরামর্শ দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত মুখ ছিলেন দুই চিকিৎসক ডা. সুষমা রেজা ও ডা. সায়েদুল আশরাফ কুশাল। তাদের ভিডিও, লেখা ও আলোচনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছেন হাজারো দম্পতি। কিন্তু সেই পরিচিত জুটিই এবার পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে নিজেদের বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানার ঘোষণা দিয়ে সবাইকে বিস্মিত করেছেন।
শনিবার (২৭ জুন) নিজেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে তারা জানান, দীর্ঘ আত্মসমালোচনা ও অনেক ভেবেচিন্তে তারা আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এই সিদ্ধান্তের মধ্যেও ছিল না কোনো দোষারোপ বা তিক্ততা; বরং ছিল পরস্পরের প্রতি সম্মান, কৃতজ্ঞতা এবং জীবনের বাস্তবতাকে শান্তভাবে গ্রহণ করার বার্তা।
দুই দশকের পথচলার স্মৃতিচারণ করে তারা লিখেছেন, খুব অল্প বয়সে একসঙ্গে জীবন শুরু করেছিলেন। একসঙ্গে গড়ে তুলেছেন পরিবার, বড় করেছেন সন্তানদের এবং জীবনের অসংখ্য সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিয়েছেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে মানুষ যেমন বদলায়, তেমনি বদলে যায় অনেক সম্পর্কও। সেই বাস্তবতা উপলব্ধি করেই তারা সম্মানজনকভাবে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ফেসবুক পোস্টে তারা অনুরোধ করেছেন, তাদের এই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে গুজব, অনুমান বা অপ্রয়োজনীয় আলোচনা দিয়ে আরও কঠিন করে না তুলতে। বিশেষ করে তাদের সন্তান, বাবা-মা এবং পরিবারের সদস্যদের মানসিক অবস্থার প্রতি সংবেদনশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে বিচ্ছেদের ঘোষণার চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে বিদায়ের আগে রেখে যাওয়া তাদের একটি ছোট্ট কিন্তু গভীর বার্তা।
তারা লিখেছেন, “নিজের পরিবারকে সময় দিন। প্রিয় মানুষগুলোর হাত শক্ত করে ধরে রাখুন। জীবন খুবই ভঙ্গুর। আজকের সাধারণ মুহূর্তগুলোই একদিন সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতিতে পরিণত হতে পারে।”
সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা, কর্মচাপ, মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় ব্যয় এবং পারস্পরিক যোগাযোগের ঘাটতি অনেক সম্পর্ককে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দেয়। বাইরে থেকে একটি পরিবার যতই সুখী মনে হোক, বাস্তবে তাদের সংগ্রাম সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে।
ডা. সুষমা রেজা একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ এবং ডা. সায়েদুল আশরাফ কুশাল একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। তারা যৌথভাবে লাইফস্প্রিং নামে একটি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। পাশাপাশি দাম্পত্য জীবন ও মানসিক সুস্থতা নিয়ে তাদের ভিডিও ও আলোচনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
এই ঘটনাটি অনেকের কাছে শুধু একটি বিচ্ছেদের খবর নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তা। সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে শুধু ভালোবাসাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সময়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আন্তরিক যোগাযোগ এবং একে অপরের প্রতি যত্ন। কারণ, জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পর্কগুলো অনেক সময় অবহেলার কারণেই ধীরে ধীরে দূরে সরে যায়।






























