
আওয়ার টাইমস নিউজ।
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আজ ৫ আগস্ট। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন এক দিন, যেদিন বুকের তাজা রক্ত দিয়ে ছাত্র-জনতা লিখেছিল নতুন ইতিহাস। এই দিনটি কেবল একটি গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি নয়, এটি স্বাধীনচেতা মানুষের অদম্য সাহস, আত্মত্যাগ, ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামের প্রতীক। সেই রক্তাক্ত জুলাইয়ের প্রতিটি শহীদ আজও জাতির বিবেক হয়ে বেঁচে আছেন।
কিন্তু শহীদদের অনেক পরিবারের চোখের জল এখনো শুকায়নি, অনেক আহত যোদ্ধা এখনো পূর্ণ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের অপেক্ষায়, আর বহু হত্যাকাণ্ডের বিচার আজও সম্পূর্ণ হয়নি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত এক আবেগঘন প্রেস বিবৃতিতে এসব কথা জানিয়েছে জাতীয় বিপ্লবী মঞ্চ। সংগঠনটির আহ্বায়ক হুসাইন ইবনে নোয়াব বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগকে কেবল স্মরণসভা, ফুলেল শ্রদ্ধা কিংবা আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। তাদের রক্তের প্রকৃত মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে কেবল ন্যায়বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নের মাধ্যমে।

_____________________
বিবৃতিতে হুসাইন ইবনে নোয়াব বলেন,”জুলাই আমাদের কাছে কেবল একটি মাস নয়, এটি একটি জাতির পুনর্জাগরণের ইতিহাস। এই ইতিহাস লেখা হয়েছে মায়ের বুক খালি করে দেওয়া সন্তানের রক্তে, বাবার স্বপ্ন হারানো তরুণের আত্মত্যাগে, অসংখ্য আহত সংগ্রামীর অশ্রু ও যন্ত্রণায়। তাই জুলাইয়ের রক্তের সঙ্গে কোনো আপস হতে পারে না, শহীদদের আত্মত্যাগকে কোনোভাবেই বিস্মৃত হতে দেওয়া যাবে না।”
তিনি বলেন, শহীদ ফরহাদ হোসেনের শেষ আকুতি, “আমার পকেটে থাকা ফোনটা আর আমার লাশটা আম্মুর কাছে পৌঁছে দেবেন” আজও প্রতিটি বিবেকবান মানুষকে শিহরিত করে। একইভাবে অসংখ্য পরিচিত-অপরিচিত শহীদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছে বাংলাদেশের মাটি। বিশেষ করে গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা শহীদ ওসমান হাদীর আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাদের প্রত্যেকের আত্মদান আমাদের ওপর নৈতিক দায়িত্ব অর্পণ করেছে।
হুসাইন ইবনে নোয়াব আরও বলেন, “বর্তমান সরকারের প্রতি আমাদের স্পষ্ট আহ্বান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত সকল শহীদের হত্যাকাণ্ডের দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা শহীদ ওসমান হাদীর হত্যার বিচার আর বিলম্ব করা যাবে না। বিচারহীনতার সংস্কৃতি একটি জাতির ভবিষ্যৎকে ধ্বংস করে দেয়। শহীদদের রক্তের বিচার নিশ্চিত করাই হবে নতুন বাংলাদেশের প্রতি রাষ্ট্রের প্রথম অঙ্গীকার।”
তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানে আহত অসংখ্য যোদ্ধা আজও শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে জীবনযাপন করছেন। তাদের উন্নত চিকিৎসা, পূর্ণ পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, “জুলাই সনদ শুধু একটি রাজনৈতিক দলিল নয়, এটি শহীদদের রক্তে লেখা জনগণের অঙ্গীকার। তাই জুলাই সনদের পূর্ণ ও কার্যকর বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজ আর বিলম্ব করা চলবে না।”
শেষে তিনি বলেন, “আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে কোনো মাকে আর সন্তানের লাশ বুকে জড়িয়ে কাঁদতে হবে না; যেখানে রাষ্ট্র শহীদদের ভুলে যাবে না; যেখানে বিচারহীনতা নয়, ন্যায়বিচারই হবে রাষ্ট্রের পরিচয়। জুলাইয়ের শহীদদের রক্ত আমাদের কাছে পবিত্র আমানত। এই আমানতের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করার অধিকার কারও নেই।”
জাতীয় বিপ্লবী মঞ্চ ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে দেশবাসীর প্রতি শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, রক্তে অর্জিত জুলাইকে রক্ষা করা, শহীদদের হত্যার বিচার নিশ্চিত করা, আহতদের পূর্ণ পুনর্বাসন এবং জুলাই সনদের বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণ সম্ভব।




























