সর্বশেষ
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক
জাতীয় সংবাদ
৭৫ হাজার টাকা বেতনে পল্লী বিকাশ কেন্দ্রে চাকরি, থাকছে প্রভিডেন্ট ফান্ড-উৎসব ভাতা
মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন
খামেনি জীবিত, ধীরে ধীরে আরও সক্রিয় হচ্ছেন: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
কুয়েত-বাহরাইনে কেন হামলা চালালো ইরান? কারণ জানিয়ে তেহরানের কড়া বার্তা
খামেনির জানাজা কবে? ইরান জানালো দাফনের সম্ভাব্য সময়
স্বর্ণের পর এবার রুপাতেও ধস, নতুন দামে চমকে উঠছে বাজার
স্বর্ণের দামে বড় ধাক্কা, এক লাফে ভরিতে কত কমলো জানলে অবাক হবেন!
রাজধানীতে আজ বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস, স্বস্তি পেতে পারেন নগরবাসী
কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি আইআরজিসির, উত্তেজনা নতুন উচ্চতায়
বৃষ্টি কমতেই বাড়ছে দূষণ, বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ১২তম
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে ‘জোরজবরদস্তি’ করলে ভালো ফল হবে না: ডা. শফিকুর রহমান
বিদ্যুতের দাম আবারও বাড়ছে? আজই আসছে নতুন মূল্যহার ঘোষণা

যে দেশে বারবার নৃ/শংসভাবে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার পরও অপরাধীদের সর্বোচ্চ বিচার নিশ্চিত হয়না, সে দেশের সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলরা কি নির্লজ্জ মনুষ্যত্বহীন বিকারগ্রস্ত?

Our Times News

বিশেষ সম্পাদকীয় কলামঃ হুসাইন আল আজাদ ইবনে নোয়াব

আওয়ার টাইমস নিউজ।

আমি আজ কোনো তাত্ত্বিক আলোচনা বা সুশীল সমাজের মারপ্যাঁচের ভাষা নিয়ে হাজির হইনি। বরং আমি হাজির হয়েছি এই সমাজের একজন বিবেকবান মানুষ হিসেবে, একজন নাগরিক হিসেবে এবং কোটি কোটি দিশেহারা পিতা-মাতার অব্যক্ত যন্ত্রণার মুখপাত্র হয়ে। আজ গভীর ক্ষোভ আর রক্তাক্ত হৃদয় নিয়ে প্রশ্ন তুলছি-এই যে জলন্ত প্রশ্নটি আমি আজ শিরোনামে ছুঁড়ে দিয়েছি, এটি কি শুধুই একজন হুসাইন আল আজাদের একক কোনো ক্ষোভ? এটি কি কেবল কাগজের পাতায় লিখে রাখা কোনো আবেগাক্রান্ত অলঙ্কার?

না, এই প্রশ্ন আজ এ দেশের কোটি কোটি নিষ্পাপ শিশু সন্তানের বাবা-মায়ের অবরুদ্ধ কণ্ঠের হাহাকার। এটি সেইসব অসহায় পিতা-মাতার কলিজা ছেঁড়া আর্তনাদ, যাঁদের সন্তানরা বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে সকালে ঘর থেকে বের হয়ে বিকেলে লাশ হয়ে ফিরেছে। এটি সেইসব মায়ের ভেতরের জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি, যাঁদের কোলের শিশুকে পৈশাচিক লালসার শিকার বানিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

গতকাল দেশের অসংখ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত রামিসার বাবার সেই কলিজা ছেঁড়া জবানবন্দি আমার ভেতরের বিবেককে ওলটপালট করে দিয়েছে, যেখানে তিনি বুকভাঙা কান্না নিয়ে বলেছেন, “আমার মেয়ের বিচার এ দেশে হবে না, আমি আশাও করি না। যদি পূর্বের শিশু হত্যার বিচার হতো, তবে অবশ্যই আজ আমার মেয়ের এই অবস্থা হতো না।” যখন একজন পিতা রাষ্ট্র ও বিচার ব্যবস্থার ওপর থেকে সম্পূর্ণ আস্থা হারিয়ে এমন চরম নিরাসক্ত মন্তব্য করেন, তখন বুঝতে হবে সমাজের পচন আর রাষ্ট্রের নৈতিক দেউলিয়াত্ব কতটা বিষাক্ত সীমায় পৌঁছেছে।

যে রাষ্ট্রে বিচার পাওয়ার আশায় বছরের পর বছর আদালতের বারান্দায় জুতো ক্ষয় করতে হয়, অথচ অপরাধীরা ক্ষমতার দম্ভ দেখিয়ে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়, সেই রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারকদের দিকে তাকিয়ে আমার এই প্রশ্ন তোলা কোনো অপরাধ নয়, বরং সময়ের সবচেয়ে বড় জ্বলন্ত সত্য।

আমি দেশের সংবাদপত্রের পাতা আর সামগ্রিক বিচার ব্যবস্থার চালচিত্র গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে এক শিউরে ওঠা সমান্তরাল বাস্তবতার দেখা পেয়েছি। বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে ঘটে যাওয়া নৃশংস শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ এবং হত্যাকাণ্ডের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অপরাধের বর্বরতা যত বেড়েছে, বিচার নিশ্চিত করার হার ঠিক ততটাই তলানিতে ঠেকেছে। একের পর এক পৈশাচিক ঘটনার পরও যখন দৃশ্যমান কোনো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হয় না, তখন এ দেশের আমজনতার রক্ত গরম হওয়াটাই স্বাভাবিক। মানুষের ভেতরের এই তীব্র প্রতিবাদী আগুন কেবল অপরাধীর বিরুদ্ধে নয়, বরং এই পঙ্গু ও পচে যাওয়া ব্যবস্থার বিরুদ্ধে। খুনি ও ধর্ষকেরা যখন নিজের মুখে অপরাধ স্বীকার করার পরও আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে, টাকার জোরে কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় পার পেয়ে যায়, তখন সাধারণ মানুষের মনে আইন ও আদালতের প্রতি তীব্র ঘৃণার জন্ম নেয়। একজন লেখক হিসেবে আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, বিচার ব্যবস্থার এই দীর্ঘসূত্রতাই মূলত অপরাধীদের বুকে সাহস জোগাচ্ছে।

অনুসন্ধান ও গবেষণায় উঠে আসে এক চরম নিষ্ঠুর সত্য, দেশের বহু কুখ্যাত অপরাধী রয়েছে, যারা প্রকাশ্য দিবালোকে ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েও অদৃশ্য ক্ষমতার হাত ধরে বুক ফুলিয়ে কারাগার থেকে বের হয়ে আসে। টাকার বিনিময়ে আর পেশিশক্তির জোরে যখন একজন খুনি বা শিশু ধর্ষক জামিনে খালাস পেয়ে যায়, তখন সে কারাগার থেকে বেরিয়ে আরও দ্বিগুণ হিংস্রতায় মেতে ওঠে। সমাজবিজ্ঞানী ও অপরাধ গবেষকদের মতো আমিও মনে করি, বিচারহীনতার এই কুৎসিত সংস্কৃতিই অপরাধীদের জন্য সবচেয়ে বড় নিরাপদ অভয়ারণ্য তৈরি করে দিয়েছে। অপরাধীরা যখন দেখে যে অপরাধ করার পরও ক্ষমতার খুঁটি ধরে অনায়াসে পার পাওয়া সম্ভব, তখন তাদের মনে আইনের প্রতি কোনো ভয় বা শ্রদ্ধা থাকে না। ফলে, একের পর এক রামিসাদের মতো নিষ্পাপ ফুলেরা এই বিচারহীনতার বলি হতে থাকে।

একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্তরে যাঁরা বসে আছেন, নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়ার সাংবিধানিক দায়িত্ব ও পবিত্র শপথ কিন্তু তাঁদেরই ছিল। কিন্তু যখন বারবার নিষ্পাপ শিশুদের রক্তে রাজপথ আর জনপদ রঞ্জিত হয়, আর সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলরা কেবল ফাঁপা আশ্বাস, রুটিনমাফিক নিন্দা আর সান্ত্বনার সস্তা বাণী শুনিয়ে নিজেদের দায়িত্ব শেষ করেন, তখন তাঁদের নৈতিকতা ও মনুষ্যত্ব নিয়ে আমি হুসাইন আল আজাদ ইবনে নোয়াব আলী তীব্রভাবে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য হচ্ছি।

যে শাসনব্যবস্থা একটি শিশুর নিরাপত্তা দিতে পারে না, যে প্রশাসন টাকার জোরে খুনিদের মুক্তি পাওয়া ঠেকাতে পারে না, সেই প্রশাসনের চালিকাশক্তিদের কি আমরা বিকারগ্রস্ত বলব না? শিশুদের লাশের ওপর দাঁড়িয়ে যাঁরা ক্ষমতার চেয়ার আঁকড়ে ধরে রাখেন, তাঁদের এই নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা প্রকারান্তরে অপরাধের লাইসেন্স দেওয়ারই শামিল। এই তীব্র অন্যায়ের বিরুদ্ধে আজ দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সময় এসেছে। আমি এবং এ দেশের কোটি কোটি বাবা-মায়ের একটাই শেষ দাবি, আর কোনো সান্ত্বনা বা আশ্বাস নয়, বিচারহীনতার এই কলঙ্কজনক অধ্যায়ের চিরতরে অবসান ঘটিয়ে শিশু রামিসাসহ অতীতের সকল শিশু হত্যাকারী ও ধর্ষকদের দ্রুততম সময়ে ফাঁসি কার্যকর করতেই হবে।

ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সুচী
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
ওয়াক্তসময়
সুবহে সাদিকভোর ৩:৪৪
সূর্যোদয়ভোর ৫:১১
যোহরদুপুর ১১:৫৭
আছরবিকাল ৩:১৬
মাগরিবসন্ধ্যা ৬:৪৩
এশা রাত ৮:০৯

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সুচী
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
ওয়াক্তসময়
সুবহে সাদিকভোর ৩:৪৪
সূর্যোদয়ভোর ৫:১১
যোহরদুপুর ১১:৫৭
আছরবিকাল ৩:১৬
মাগরিবসন্ধ্যা ৬:৪৩
এশা রাত ৮:০৯

সর্বশেষ

© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত