
আওয়ার টাইমস নিউজ।
মাইলস্টোন ট্রাজেডি: যেদিন আগুনের হল্কা গ্রাস করেছিল মাইলস্টোন স্কুলের শ্রেণিকক্ষ, সেদিনই মানবতার বেদীমূলে অক্ষয় এক নাম লিখে গেলেন মাহেরীন চৌধুরী।
কদিন আগেই অভিভাবকদের কথা দিয়েছিলেন, “আমার বুকের ওপর দিয়ে যাবে, একটাও শিশু কিছু হলে।” কথার বর্মই ছিল তার শেষ রক্ষাকবচ।
জ্বলন্ত জেট ফুয়েলের অগ্নিকুণ্ডে দগ্ধ হতে হতে বুকের কাছে আগলে রেখেছিলেন শিশুদের। একে একে ২০টি নিষ্পাপ প্রাণকে আগুনের থাবা থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন, একটিমাত্র অনিশ্চয়তা নিয়েই—শেষ বেঞ্চে কোনো শিশু পড়ে রইল না তো? শেষ মুহূর্তে কোনো নিস্তেজ কণ্ঠ যখন আর্তিতে ডেকেছিল,“ম্যাম, আমি এখানে…” তখনও পিছিয়ে যাননি মাহেরীন।
পোড়া চামড়ার বেদনা, নিশ্বাসে ধোঁয়া আর দগ্ধ অঙ্গের ভয়াবহ যন্ত্রণাকেও জয় করেছেন বুকের ভেতরকার মাতৃসম সাহসে।
শেষ মুহূর্তে স্বামীর হাত ধরে ফিসফিস করে বলেছিলেন—“আর দেখা হবে না।” স্বামীর কান্নাভেজা প্রশ্ন, “তুমিও তো মা, বেরিয়ে এলে না কেন?”
মাহেরীনের শীতল উত্তর, “ওরাও তো আমার সন্তান। কথা দিয়েছিলাম…”
মাইলস্টোন স্কুলের গলিত পোড়া দেয়াল, দগ্ধ শিশুদের আর্তনাদ আর হাজারো চোখের অশ্রু, সাক্ষী হয়ে রইল এক ‘মা’র অটল প্রতিজ্ঞার।
শ্রাবণের বৃষ্টিতে আজ নীলফামারীর কোনো কোণে, কিংবা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কোনো মাটির নিচে শীতল হচ্ছে মাহেরীন আর মাসুকাদের কবর, কিন্তু শ্রদ্ধার অশ্রুতে মাটি ভেজা—এ মাটি আর কখনো শুকাবে না।
কারণ এ দেশের প্রতিটি শিশু, কিশোর, তরুণ-তরুণী একদিন নতুন কোনো ক্লান্তি আর অনিয়মের আগুনে পুড়তে বসলে শুনবে—“দৌড়াও! ভয় পেয়ো না। আমি আছি।”
মাহেরীন চৌধুরী আর কোনো একবারও ফিরবেন না—তবু থাকবেন শ্বেত শুভ্র প্রতীক হয়ে, শত প্রজন্মের বুকের ভেতর।
রাষ্ট্রীয় মেডেল হয়তো আসবে না, আসুকও না, মাহেরীনের নাম ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ মেডেল হয়ে জ্বলজ্বল করবে বাংলাদেশের শিশুর চোখে।
মাহেরীন, কথা দিন, ক্লান্ত এই বাংলায় আবার যখন কোনো অন্যায় জ্বলবে, আরেকবার ওপার থেকে বলবেন, “দৌড়াও, থেমো না, আমি আছি…”


























