
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা বিমানবন্দর-সংলগ্ন ১৩৬ বছরের পুরোনো বাঁকড়া এয়ারপোর্ট মসজিদে সাময়িকভাবে নামাজ আদায় বন্ধ করা হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত সেখানে নামাজ অনুষ্ঠিত হলেও শনিবার থেকে মসজিদের প্রধান প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেটই ছিল মসজিদে প্রবেশের একমাত্র পথ।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জমিরউদ্দিন জানান, এ সিদ্ধান্তের আগে কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেওয়া হয়নি। তবে মসজিদ স্থানান্তর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছিল। সে সময় বিকল্প হিসেবে আরও বড় জায়গা দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি জানান।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা বিধিমালা অনুযায়ী রানওয়ে থেকে যেকোনো স্থাপনার ন্যূনতম দূরত্ব ২৪০ মিটার হওয়া উচিত। কিন্তু বাঁকড়া এয়ারপোর্ট মসজিদটি রানওয়ে থেকে মাত্র ১৬৫ মিটার দূরে অবস্থিত। এছাড়া এটি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রিত এলাকার মধ্যে থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে মসজিদটি স্থানান্তর প্রয়োজন বলে দাবি করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকা সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (সিআইএসএফ)-এর নিরাপত্তা তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং অতীতেও সংস্থাটি এ স্থাপনা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৮৯০ সালে ‘গৌরীপুর জামে মসজিদ’ নামে এই মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে এর নাম পরিবর্তন করে ‘বাঁকড়া এয়ারপোর্ট মসজিদ’ রাখা হয়। কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মিত হয় ১৯২৪ সালে, অর্থাৎ বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার প্রায় ৩৪ বছর আগেই মসজিদটি গড়ে ওঠে।
স্থানীয় ইতিহাসবিদদের মতে, একসময় অবিভক্ত বাংলার বিভিন্ন অঞ্চল, এমনকি বর্তমান বাংলাদেশের সাতক্ষীরা থেকেও মুসল্লিরা এই মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসতেন। বর্তমানে উত্তর ২৪ পরগনাসহ আশপাশের এলাকার বহু মানুষ নিয়মিত এখানে ইবাদত করতেন।
ঘটনার পর শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের সুযোগ নিশ্চিত করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, কোনো আলোচনা ছাড়াই মসজিদের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া ঠিক হয়নি।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে দারুল উলুম দেওবন্দ, অল ইন্ডিয়া মুসলিম পারসোনাল ল বোর্ড এবং জমিয়ত উলামায়ে হিন্দসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।




























