
আওয়ার টাইমস নিউজ।
নিউজ ডেস্ক: নিজের দুই শিশু সন্তানকে হত্যার অভিযোগে কারাবন্দি সালেহা বেগম বর্তমানে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন এবং নিয়মিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
কারা সূত্র জানায়, সালেহা অধিকাংশ সময় নীরব ও ভাবলেশহীন থাকেন। কারও সঙ্গে খুব একটা কথা বলেন না, এমনকি নিজের থেকে খাবারও চান না। খেতে বলা হলে খান, না হলে না খেয়েই সময় পার করেন। পরিবার, সন্তান কিংবা বাইরের কোনো বিষয় নিয়েও তার মধ্যে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বাসিন্দা সালেহার বিয়ে হয় ২০১৪ সালে। পরে স্বামীর সঙ্গে গাজীপুরের টঙ্গীর আরিচপুর এলাকায় বসবাস শুরু করেন। তাদের দুই মেয়ে ও এক ছেলে ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৮ এপ্রিল তিনি নিজের ছেলে ও ছোট মেয়েকে ধারালো বঁটি দিয়ে হত্যা করেন।
কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপকালে সালেহা দাবি করেন, ঘটনার দিনের কোনো স্মৃতিই তার মনে নেই। তিনি কীভাবে বা কেন এমন ঘটনা ঘটেছে, তা মনে করতে পারেন না।
কারা প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, কারাগারে আসার পর থেকেই তাকে নিয়মিত তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তার মানসিক অবস্থার উন্নতির চেষ্টা চলছে।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার সময় বাসায় সালেহা ছাড়া অন্য কারও প্রবেশের প্রমাণ সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর তিনি নিজেই পাশের বাড়ির স্বজনদের ডাকেন।
পরে অসংলগ্ন আচরণের কারণে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সন্তানদের হত্যার কথা স্বীকার করলেও এর কারণ ব্যাখ্যা করতে পারেননি।
অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর কবির জানিয়েছেন, সালেহা প্রকৃতপক্ষে মানসিক রোগে আক্রান্ত। কারাগারে তার সার্বক্ষণিক চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে এবং তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার নিয়মিত মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
ঘটনার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম আইন অনুযায়ী চলমান রয়েছে।




























