
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি দেশের উন্নয়ন কেবল সড়ক বা অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, শিশু চিকিৎসা, খাল পুনঃখনন এবং মানুষের সামগ্রিক জীবনমানের উন্নয়নই প্রকৃত উন্নয়নের ভিত্তি। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের বিভিন্ন খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে দেশকে বের করে আনতে বর্তমান সরকার পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
সোমবার বিকেলে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত এক সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার এমন এক সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, যখন ব্যাংকিং ব্যবস্থা দুর্বল, স্বাস্থ্যসেবা ভঙ্গুর এবং উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসা ব্যবস্থা নাজুক অবস্থায় ছিল। একই সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে দেশের শিক্ষাগত সনদের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা কমে গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যেই বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি, যা দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার ফল।
তিনি বলেন, এসব সংকটের অন্যতম কারণ ছিল জবাবদিহির অভাব। নিয়মিত ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত হওয়ার কথা থাকলেও গত ১৭ বছরে সেই ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যায়।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পরিকল্পনা আগে থেকেই প্রস্তুত থাকায় দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই রমজান মাস শুরু হলেও সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকট সৃষ্টি হয়। এর ফলে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত প্রায় আড়াই বিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে।
পূর্ববর্তী সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ কয়েকটি বড় প্রকল্পে অস্বাভাবিক ব্যয় হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের প্রকাশিত শ্বেতপত্রে গত ১৭ বছরে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারের তথ্য উঠে এসেছে।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি জানান, উপজেলা পর্যায়ের ৫১ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় এক হাজার শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে।
জলাবদ্ধতার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু ফ্লাইওভার নির্মাণ করলেই উন্নয়ন হয় না। খাল ও ড্রেন দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন শহরে জলাবদ্ধতা বেড়েছে। টেকসই উন্নয়নের জন্য পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নকে গুরুত্ব দিতে হবে।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, গত ১৭ বছরের কঠিন সময়ে যারা দলকে ধরে রেখেছেন, তাদের অবদান মূল্যায়ন করা হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, দলের মধ্যে কোনোভাবেই অনুপ্রবেশকারী বা হাইব্রিড নেতাদের জায়গা দেওয়া যাবে না।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান জানান, বিএনপি অবশ্যই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবে। তবে সাংগঠনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর বর্ষা শেষে নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে দলীয় প্রার্থী নির্ধারণের আহ্বান জানান।
হিন্দু সম্প্রদায়ের আসন্ন ধর্মীয় উৎসবের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব উদ্যাপন নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে যেমন নানা ষড়যন্ত্র হয়েছিল, এখনও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহল ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। এসব মোকাবিলায় দলকে আরও সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষদিকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে না। দেশের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই জনগণের কাছে অঙ্গীকার করা হবে। তিনি বলেন, বিএনপি যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে, তখনই আন্তরিকতার সঙ্গে দেশের উন্নয়নে কাজ করেছে।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও জাতীয় নির্বাচনের মতো ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঐক্য, শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক শক্তিই বিএনপির সবচেয়ে বড় সম্পদ এবং এই শক্তিকেই ধরে রেখে সামনে এগোতে হবে।




























